• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে সেফটিক ট্যাংক থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার, বন্ধু গ্রেপ্তার

রিপোর্টার নাম:
আপডেট বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহীতে বন্ধুর হাতে খুন হয়েছেন এক যুবক। আবার সেই বন্ধুর মরদেহ গায়েব করতে সেটিকে ফেলে দিয়েছিলো সেফটিক ট্যাংকে। কিন্তু গায়েব করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে বন্ধু। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ি বুধবার রাতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরো কারা জড়িত ছিলো তাদের গ্রেপ্তারে কাজ মুরু করেছে পুলিশ। নিহতের নাম মাহফুজুর হোসেন ওরফে সজল (৩৮)। রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম মুন্সিপাড়া এলাকার মোহাম্মদ মর্তুজা হোসেনের ছেলে তিনি। গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ আরিফুল হক চৌধুরী ওরফে রিপনের (৪০) বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার আবদুলপুর গ্রামে। মৃত হামিদুল হকের ছেলে তিনি। রাজশাহী নগরীর শাহমখদুম থানার সন্তোষপুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন রিপন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান জানান, নিহত সজল ও আসামি রিপন দুই বন্ধু। প্রায় ছয় বছর দরে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিলো। পারিবারিক ভাবেও তাদের যাওয়া আসা ছিলো। রিপনকে গ্রেপ্তারের পর হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসে এবং তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার ভোর রাতে সেফটিক ট্যাংক থেকে সজলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনতলায় তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যার পর লাশ ফেলা হয় বাড়ির পেছনে। এরপরই সেটিকে সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়। এই ঘটনার সাথে সজলের জড়িত থাকার তথ্য নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। এর সাথে আরো কারা জড়িত আছে সেটা বের করার জন্য কাজ চলছে। এঘটনায় তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক জানান, সজলের বাবা মর্তুজা হোসেন বুধবার নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১ অক্টোবর থেকে সজল নিঁখোঁজ রয়েছে, তাকে অপহরণ করা হয়েছে। সজলকে ফিরিয়ে দিতে অপহরণকারীরা প্রথমে ১ কোটি এবং পরে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে পরিবারের কাছে।
এই জিডির পর নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জানতে পারে, মুক্তিপন দাবি করা ব্যক্তির অবস্থান রিপনের ভাড়া বাসায়। এই সূত্র ধরে রিপনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিপন পুলিশের কাছে স্বিকার করে, ২ অক্টোবর রিপনকে হত্যা করে লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার ভোররাতে কাশিয়াডাঙ্গা ও শাহমখদুম থানা এবং ডিবি পুলিশ রিপনকে নিয়ে তার ভাড়া বাসায় অভিযানে যায়। এ সময় রিপনের দেখানো তথ্য অনুযায়ি তার বাড়ির পেছনে সেপটি ট্যাংক থেকে সজলের লাশ উদ্ধার করা হয়।
বিজয় বসাক জানান, এ ঘটনায় রিপনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন নিহত ব্যক্তির বাবা। সজলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো নিউজ