• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন

জমে উঠেছে রাজশাহীর কোরবানির হাট

রিপোর্টার নাম:
আপডেট সোমবার, ১৯ জুন, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র দেড় সপ্তাহখানেক বাকি। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত প্রতিদিনই বসবে রাজশাহীর সর্ববৃহৎ সিটি পশুহাট। এই হাটে কেনাবেচা জমে উঠতে শুরু করেছে। বেড়েছে পশু সরবরাহ ও ক্রেতা সমাগম। এবার এখানকার চাহিদার তুলনায় পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজার। আর উদ্বৃত্ত পশুর সিংহভাগই ছাগল।

রাজশাহী প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য মতে, গত ৫ বছর থেকে রাজশাহীর কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাচ্ছে দেশি জাতের গরু। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বরং বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেড়েছে পশুর উৎপাদন। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ছাগলের উৎপাদন। তবে উৎপাদন যাই হোক, বাড়তি দামেই চলছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সমন্বয় করেই দাম হাঁকছেন ব্যবসায়ীরা।

পশু ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজশাহীতে কোরবানিযোগ্য খুব ভালো ভালো পশু এবার আছে। তবে বড় গরু ও মহিষের চাহিদা অনেকটাই কম। এ কারণে তুলনামূলকভাবে বড় পশুর দাম মাঝারি ও ছোট পশুর চেয়ে কম। আর এবার কোরবানিতে মাঝারি সাইজের পশুর চাহিদাই সর্বাধিক।

সিটি হাটে গিয়ে দেখা যায়, গরুর সরবরাহ অনেক। ক্রেতারাও আসছেন। তবে খুব বেশি হাঁকডাক নেই। রোদ-গরমে পশুর সঙ্গে হাঁপিয়ে উঠেছে ক্রেতা-বিক্রেতারাও। অধিকাংশ ক্রেতাই পশু কেনার আগে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। এছাড়া দাম নিয়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আছে।

রাজশাহীর পবা উপজেলার খামারি গোলাম মোস্তফা জানান, তার খামারে এবার ৩০টার বেশি গরু আছে। সবগুলোয় প্রায় ৫ মণের বেশি। এখন পর্যন্ত যে দাম চাইছেন, সেটা বর্তমান মাংসের বাজার অনুযায়ী। ক্রেতাদেরও ভালো সাড়া পেয়েছেন।

দামকুড়ার গুরু ব্যবসায়ী আইনাল হক জানান, হাটে যে গরু উঠছে তার একটি বড় অংশই বাড়ির পোষা গরু। বাইরের গরু নেই। এ কারণে পশুর ন্যায্য দামটা আছে। তবে এবার গরুর দাম সব জায়গাতেই বেশি। বেশি দামে গরু কিনে এনে তেমন লাভ করা যাচ্ছে না।

ক্রেতা সাগর আহমেদ জানান, তারা প্রতিবছরই সাতজন মিলে গুরু কিনে কোরবানি দেন। এবারও তাই। সামনে বাজার দর আরো বাড়তে পারে। এ কারণে আগেই কিনতে এসেছেন। দাম গত বছরের চেয়ে বেশি। প্রতিজনের ভাগে এবার ৩-৭ হাজার টাকা বাড়তি যোগ করতে হচ্ছে।

এদিকে, রাজশাহী প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য মতে, রাজশাহীতে এবার গত বছরের চেয়ে দ্বিগুন পশু রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী রাজশাহীতে এবার কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ৬ লাখ ৪৮ হাজার। এর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ২৮৫টি। যা গত বছর ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭২টি। এবার ছাগল রয়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার। যা গত বছর ছিল মাত্র ২ লাখ ৩৩ হাজার ২৩৫টি ছাগল। রাজশাহীতে এবার ছাগলের সরবরাহ দ্বিগুণ। এবার ভেড়া রয়েছে ৭৬ হাজার ৩০৫টি। যা গত বছর ছিল ৩৮ হাজার ২৪৫টি ভেড়া।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জুলফিকার মো. আখতার হোসেন বলেন, রাজশাহীতে এবার চাহিদার চেয়েও বেশি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত আছে। ২০২২ সালে রাজশাহীতে ঈদুল আজহায় ৩ লাখ ২৪ হাজার ৯৭৭টি পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছিল। এটিকেই এবারের কোরবানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী রাজশাহীতে চাহিদার তুলনায় পশু রয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তবে গরু ও মহিষের চেয়ে ছাগলের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

তিনি আরো বলেন, ব্যবসায়ীরা উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়েই মূল্য নির্ধারণ করছে। যে মূল্য তারা চাচ্ছে, সেটা অস্বাভাবিক না। আর উদ্বৃত্ত পশুর সিংহভাগই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাবে। কিছু পশু থাকতে পারে। যেগুলো আগামী বছরের জন্য খামারিরা রেখে দিতে পারেন। আর এখন থেকে প্রতিদিনই সিটি হাটে কেনাবেচা চলবে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, দেশি জাতের পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। আমদানির কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। বরং পশু রাজশাহীর চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা যাবে। আর সীমান্ত দিয়ে ঈদে ভারতীয় গরু আসার কোনো সুযোগ নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো নিউজ