• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন

আম রফতানিতে যোগ হলো আরো ৫ দেশ

রিপোর্টার নাম:
আপডেট বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ২৬ আগস্ট রাজশাহী থেকে প্রথমবারের মতো আম রফতানি হয়েছে ইউরোপ ও রাশিয়ায়। দীর্ঘ ৩ বছরের প্রচেষ্টায় একটি কোম্পানি এই আম রফতানি করে। এভাবে প্রতিবছরই আম রফতানিতে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন দেশ। চলতি বছরে এ অঞ্চলের আম রফতানিতে যোগ হয়েছে আরো ৫টি দেশ। বছরের ব্যবধানে মোট আম রফতানিও বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।

রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, রাজশাহী কৃষি অঞ্চল রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর এই চারটি জেলা নিয়ে গঠিত। নাটোর থেকে কোনো আম রফতানি হয় না। তবে বাকি ৩ জেলা থেকে এবার ১৭টি দেশে আম রফতানি হয়েছে। যা গত বছর ছিল ১২টি দেশ। বর্তমানে নতুন করে ৫টি দেশে এ বছর আম রফতানি হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে ইতালি, হংকং, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, দুবাই, বাহরাইন, কাতার, ইউরোপ, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, লন্ডন, কুয়েত, নেদারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও রাশিয়ায় আম রফতানি হয়েছে।

দফতারটির তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে এ অঞ্চলে আম উৎপাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ মেট্রিক টন আম। যেখানে মোট বাণিজ্যের আশা সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। আর বিদেশে রফতানির টার্গেট আড়াই হাজার মেট্রিক টন। তবে চলতি মৌসুমের ২০২২-২৩ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৪৫২.১৫ মেট্রিক টন আম রফতানি হয়েছে। যা গত বছর ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ২২২.৮৮ মেট্রিক টন। আর চলতি মৌসুমে এখনো আম রফতানি চলমান। অর্থবছর শেষে রফতানির পরিমাণ আরো বাড়বে।

তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে আম্রপালি জাতের আম সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়েছে। আর রফতানিতে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নওগাঁ, তৃতীয় স্থানে রাজশাহী। চুক্তিবদ্ধ ৫৩ জন উৎপাদনকারী এই আম রফতানি করেছেন।

বাঘার আম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সাদিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক শফিকুল ইসলাম ছানা জানান, তিনি কয়েক বছর ধরে রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন করে আসছেন। এই আম উৎপাদনে খরচ বেশি। পরিচর্যাও বেশি নিতে হয়। কারণ এই আম রফতানিকৃত দেশের শর্ত মেনে উৎপাদন করতে হয়। এ বছর তার উৎপাদনকৃত আম ইতালিসহ কয়েকটি দেশে গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কুন্দুয়া গ্রামের চুক্তিবদ্ধ আমচাষি নাজিম উদ্দিনের বাগান থেকে সংগ্রহ করে প্রথমবারের মতো রাশিয়ায় আম রফতানি করা হয়েছে।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এমটিবি অ্যাগ্রো অ্যান্ড গার্ডেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব আলী জানান, রাশিয়ায় আম রফতানি করা সহজ ছিল না। অনেক প্রচেষ্টার পরে সম্ভব হয়েছে। এই আম রফতানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রাশিয়ার জুড়ে দেওয়া শর্তগুলো পূরণ করা। তারা আমের মিষ্টতা, আকার সবকিছু শর্ত অনুযায়ী নিয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক জানান, দেশের অন্যান্য জেলা ও দেশের বাইরে বাজারজাতকরণে আমে জিআই ট্যাগ ব্যবহার, জেলায় প্যাকেজিং হাউস তৈরি করা জরুরি। সরকারি পৃষ্টপোষকতা বৃদ্ধি পেলে রফতানিতে মাইল ফলক সৃষ্টি করবে আম।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাজদার হোসেন বলেন, এবার শুরুতেই রাজশাহী থেকে বিদেশে আম রফতানি হয়েছে। আম পাড়ার ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম পাড়ার প্রথম দিনেই গুটি জাতের আম বাঘা থেকে ইতালিতে রফতানি হয়েছে। আম রফতানিতে এখানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ বলেন, প্রতি বছরই আম রফতানি বাড়ছে। রাজশাহীতে এবার আড়াই হাজার মেট্রিক টন নিরাপদ আম অর্থাৎ রফতানিযোগ্য আম উৎপাদন হয়েছে। রফতানির মাধ্যমে আমের অর্থনীতির টেকসই হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে আমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া এ অঞ্চলের আম স্বাদের দিক দিয়ে অন্য দেশগুলোর চেয়ে টেস্টি। এ কারণে বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকেই ব্রান্ডিং করছে আম।

তিনি আরো বলেন, আম রফতানির বিষয়টি এখন খুবই আলোচিত। নতুন নতুন ব্যবসায়ী এটার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। সুতরাং এখন আর আম রফতানি নিয়ে পেছনে ফিরে তাকানোর সুযোগ নেই। আর চলতি মৌসুমে আম এখন রফতানি হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরিতে আরো নিউজ