Home » উত্তরের খবর » ‘মানুষের ভালোবাসা পাওয়া রাজনৈতিক জীবনে আমার বড় অর্জন’
‘মানুষের ভালোবাসা পাওয়া রাজনৈতিক জীবনে আমার বড় অর্জন’

‘মানুষের ভালোবাসা পাওয়া রাজনৈতিক জীবনে আমার বড় অর্জন’

নিজস্ব প্রতিবেদক ০
ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এমনকি গ্রাম পর্যায়ে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের যে কোন সমস্যায় সক্রিয়ভাবে কাছে থেকে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি দলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাঃ আসাদুজ্জামান আসাদ। সংসদ সদস্যের কাছে উপেক্ষিত দলের পোড়খাওয়া মানুষগুলো তার কাছে এসে খুঁজে পান সমস্যার কাঙ্খিত সমাধান। বাবার রাজনৈতিক আদর্শ দেখে হাইস্কুল থেকে জড়িত হন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে। এসএসসি পরীক্ষার আগে নগরীর ৬নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। রাজশাহী সিটি কলেজে পড়াকালে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এরপর রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। ছাত্রলীগের পর যুবলীগ। এভাবে দলের তৃণমূলের বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে গত ৪ বছর ধরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করলেও সংসদ সদস্যের মনোনয়ন চেয়েও পাননি। পাননি সরকারি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। তবে এ নিয়ে মনে কোনো কষ্ট নেই আসাদের।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক দল। আমার বাবার যে রাজনৈতিক পথচলা, সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুকে চেনা। এরপর স্কুল জীবন থেকেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত হই। এ পর্যন্ত রাজনীতিতে আছি। রাজনীতিতে ব্যক্তিগতভাবে আমার অর্জন অনেক। রাজনীতি করে মানুষ যেটি চায়- মানুষের ভালোবাসা, সেটি আমি অনেকের চেয়ে অনেক বেশি পেয়েছি। রাজশাহীর মানুষ আমাকে চেনে আওয়ামী লীগের আসাদ হিসাবে। এটি আমার রাজনৈতিক বড় অর্জন বলে আমি মনে করি। আমি ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগ করার কারণে অনেক তরুনরা আমার কর্মকান্ড দেখে আওয়ামী লীগের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্রলীগে এসেছে, তাদের অনেকে এখন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগার। সে কারণে আমি মনে করি আমার এ পর্যন্ত রাজনৈতিক পথচলায় আমি জনগণের ভালোবাসা পেয়েছি, জনগণের সাথে থাকতে পেরেছি। এটিই আমার মূল অর্জন। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সান্নিধ্য পাওয়াও আমার একটি বড় অর্জন। মাননীয় নেত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, জানেন।

 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দলের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার ভাবনার কথা উল্লেখ করে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদেরও দৃষ্টি কেড়েছেন আসাদ। কেন তার এই ভাবনা, জানতে চাইলে সময়ের আলোকে তিনি বলেন, ‘দলের মাননীয় সভানেত্রী অনেক ভরসা নিয়ে আমাকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করেছিলেন। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে আমার যে কর্মকান্ড থাকার কথা ছিলো, সেটি আমি করতে পারছি না। এখানে আমার কষ্ট আছে। সংগঠনের গতি আনার জন্য যে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সেটি বারবার বাধাগ্রস্ত করেছেন জেলার সংসদ সদস্যরা। সে কারণে ক্ষোভ ও দুঃখের জায়গা থেকে আমি বলেছি যে, আমি আওয়ামী লীগের দায়িত্বে থাকবো কিনা ভাবছি। তবে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করার প্রশ্নই উঠে না। আর দায়িত্বে তো মানুষ সারা জীবন থাকেও না। একটি সময় দায়িত্বের জায়গা থেকে সরতেই হয়।’

 

আসাদ বলেন, ‘আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আছি, অথচ দীর্ঘ ১৫ মাস আমার জেলা কমিটির মিটিং নেই। এটি ব্যর্থ সাধারণ সম্পাদকের পর্যায়ে পড়ে। আমি ব্যর্থতার দায় নিতে চাইনি বলেই আমি মাননীয় নেত্রীসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগকে বলেছি জরুরিভাবে দলের রাজশাহী জেলা সম্মেলন করে দেওয়ার জন্য।’ তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর যে নির্যাতন চলছে, এটি একটি ভয়াবহ বিষয়। এসব নির্যাতন চালাচ্ছে নব্য আওয়ামী লীগাররা। এরা এমপিদের সহায়তায় পুলিশকে পাশে রেখে যারা দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিল. তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। বিশেষ করে তানোর, গোদাগাড়ি, দুর্গাপুর, মোহনপুর ও পবায়। এসব এলাকায় নব্যদের অত্যাচারে প্রকৃত আওয়ামী লীগাররা কোনঠাসা। তাদের অনেকেই রাতে বাড়িতে পর্যন্ত থাকতে পারেন না। এসব কারণে আমি ক্ষোভ, দুঃখ ও কষ্টের জায়গা থেকে বলেছি যে নেতৃত্বের জায়গায় থাকবো কিনা ভাবতে হবে। সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালাতে না পারলে পদে থাকা না থাকা তো সমান বিষয়।’

 

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘অনেকেই ক্ষমতাসীন দলের বড় পদে থেকে নিজের আখের গোছানোর চেষ্টা করে। আমি রাজনীতিকে পবিত্র আমানত হিসাবে মনে করি। আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ৪ বছর। এই সময়ে আমি আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে কোনো কাজ নিয়েছি, বাংলাদেশের কোথাও তা খুঁজে পাবেন না। এই ৪ বছর আমি কোনো ঠিকাদারিও করিনি। পবিত্র আমানতের জায়গাটা আমি নষ্ট করতে চাই না।’

 

আসাদ বলেন, ‘সবচেয়ে কষ্টের বিষয় আমাদের জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, যিনি তিনবারের এমপি। এর আগে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। অথচ তিনি জীবনে নৌকায় ভোট দেননি। তিনি নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। তিনি সেই ট্রান্সফার করে তার নির্বাচনী এলাকায় নিয়ে যাননি। ফলে তিনি নিজেকেও কোনদিন ভোট দেননি। ভোটের দিন তিনি সকালে নির্বাচনী এলাকায় যান, রাতে শহরের বাসায় ফিরে আসেন। ফলে তিনি শহরে এসেও নৌকায় ভোট দেন না। সর্বশেষ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনের আগে প্রচারণার শেষ দিন তিনি সমস্ত নিয়মকানুন ভঙ্গ করে রাজশাহীতে এমপি হিসাবে মিছিল করলেন, কিন্তু ভোটের দিন তিনি আর রাজশাহীতে ছিলেন না। ফলে তিনি মেয়র ভোটটিও দেননি। আমি মনে করি এই ধরণের আওয়ামী বিরোধী মানুষের নেতৃত্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা আমার পক্ষে সম্ভব না। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে। সভাপতি থাকার পরেও তিনি গত ১৫ মাস জেলা আওয়ামী লীগ অফিসে আসেননি। জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভা ডাকার কোনো অনুমতি তিনি দেন না। জাতীয় কোনো দিবসে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচিতে তিনি থাকেন না। ফলে আমি মনে করি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন করে যারা প্রকৃতপক্ষে জেলা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিতে পারবে, তাদের হাতে দলের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত।’

 

আসাদ বলেন, ‘রাজশাহী আদালত পাড়ায় গেলে দেখতে পাবেন প্রতিদিন আওয়ামী লীগের কমপক্ষে তিনশ’ নেতাকর্মী আদালতে হাজিরা দেন। নব্য আওয়ামী লীগাররা এসব মামলা বাদি। একটি উদাহরণ দেই। বিএনপি যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় তখন গোদাগাড়িতে ছাত্রলীগের নেতা ফিরোজকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হয়েছিল ডাইংপাড়া মোড়ে। এই হত্যকান্ডের সাথে জড়িত তালবাবু আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের পুরানো নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ পাহারায় নানাভাবে অত্যাচার করছে। সে এমপি লীগের লোক। রাজাবাড়ি ফার্মে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে কাজ করছে মুসলিম লীগের লোকজন, যারা এখন নব্য আওয়ামী লীগার। ১৫ আগস্ট যেখানে গোটা জাতি শোকে মুহ্যমান থাকে, সেদিন গোদাগাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপি নেতাকে আমাদের সভাপতি দলে যোগদান করে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবসে জেলা সভাপতি তানোরে আনন্দ র‌্যালি করেন।’

 

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ বলেন, গত জাতীয় সংসদের নির্বাচনে আমি রাজশাহী-৩ আসন থেকে মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করেছিলাম। মনোনয়ন পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পাইনি। দলের সাড়ে ৪ হাজার নেতা মনোনয়ন চেয়েছিলেন। পেয়েছেন তো মাত্র ৩শ’ জন। মনোনয়ন বোর্ড এবং নেত্রী মনে করেছেন এমপি হওয়ার যোগ্যতা আমার এখনও হয়নি, তাই মনোনয়ন দেয়নি। মনোনয়ন না পাওয়ার পরও আমি জেলার ৬টি নির্বাচনি এলাকায় নৌকা প্রতিকের পক্ষে ব্যাপক কর্মকান্ড চালিয়েছি। রাজনীতিতে মানুষের লক্ষ্য থাকে সংসদ সদস্য হবার কিংবা অন্য কোনো দায়িত্বশীল জায়গায় যাবো, তবে সব আশা তো আর মানুষের পূরণ হয় না। মনোনয়ন না পাওয়ায় সাময়িক কষ্ট ছিল। তবে নেতৃত্বের জায়গায় থেকে কষ্ট ধারণ করে ঘরে বসে থাকলে তো হবে না। দলের কর্মকান্ড পরিচালনা করাই আমার মূল কাজ।’

 

দলের বিভিন্ন জায়গায় দলের কোন্দলে উস্কে দেওয়ার এমপিদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে আসাদ বলেন, ‘যেখানে এমপিরা চাল-ধান-গম চুরি করে বিক্রি করে, সেখানে আমি বাধা দেই। এটি যদি অপরাধও হয় আমি যতোদিন দায়িত্বে আছি তা করবোই। চাকরি বিক্রি করে সেখানে আমি ব্যারিকেড দেই। জামায়াত-বিএনপিকে চাকরি দিয়ে গোটা রাজশাহী জেলা সয়লাব করেছে নব্য আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি এমপিরা। সে কাজে তো আমি বাধা দেই, দেবোই। বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করা আওয়ামী লীগের মানুষদের যদি গলা ধাক্কা দেয় কোনো এমপি, সেখানে এমপির সাথে খারাপ ব্যবহার করা তো আমার নৈতিক দায়িত্ব। আওয়ামী লীগের ত্যাগি নেতাকর্মীদের যদি কেউ মানহানিকর কথা বলেন, সেই ত্যাগি নেতার পাশে দাড়ানো আমার নৈতিক দায়িত্ব। ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রি করে দেবেন, আর তা বলতে পারবো না, তা তো হবে না। হেরোইন সিন্ডিকেটের উপদেষ্টা হয়ে আওয়ামী লীগের নামে দুর্নাম আনবেন, সেখানে আমি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে তো অভিযোগ দেবোই। আমি এসব করি বলেই আমার বিরুদ্ধে দলে কোন্দলের অভিযোগ আনা হয়। আমি ব্যক্তির খারাপ হতে পারি, দলের তো কোনো ক্ষতি করিনি। কোনো ব্যক্তি তার অবৈধ অর্থ আদায়ে বাধাগ্রস্ত হয়ে যদি বলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বলুক।’

 

বাংলার কথা/এপ্রিল ১০, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*