Home » উত্তরের খবর » আইনের শাসন নিশ্চিত করতে পুলিশকে সবার আগে এগিয়ে আসার নির্দেশ
আইনের শাসন নিশ্চিত করতে পুলিশকে সবার আগে এগিয়ে আসার নির্দেশ

আইনের শাসন নিশ্চিত করতে পুলিশকে সবার আগে এগিয়ে আসার নির্দেশ

মোজাম্মেল হক, চারঘাট (রাজশাহী) ০
আইনের শাসন নিশ্চিত করতে পুলিশকে সবার এগিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। রোববার (২৭ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৬তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশ দেন।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, মামলার যথাযথ তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা, মামলার বাদি, ভিকটিম ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা প্রদানসহ পুলিশের ওপর অর্পিত সব দায়িত্ব প্রতিটি সদস্যকে নির্মোহভাবে পালন করতে হবে। জনগণকে আইনী সহায়তা দেয়া, তথ্যের ভিত্তিতে ত্বরিৎ ব্যবস্থা নেয়া, নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীসহ সেবাপ্রত্যাশী জনগণের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতেও পুলিশ সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দেন আইজি।

তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তির বিকাশ ও বিশ^ায়নের ফলে অপরাধের প্রকৃতি, মাত্রা ও অপরাধ সংগঠনের কৌশলে নিয়ত পরিবর্তন ঘটছে। পুলিশকেও তাই অপরাধ মোকাবেলা, কলা-কৌশল প্রয়োগ এবং প্রযুক্তি ও লজিস্টিকস ব্যবহারে সক্ষমতা অর্জন করতে হচ্ছে।

ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সন্ত্রাস দমন, মাদকের অপব্যবহার ও বিস্তার রোধে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি বছরে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকার অনুসৃত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও সাহসিকতা বিশে^ প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমান সরকার পুলিশের কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে নতুন ও বিশেষায়িত ইউনিট গঠন, ধারাবাহিকভাবে জনবল বৃদ্ধি, কর্মদক্ষতার উন্নয়নে দেশে-বিদেশে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা, অত্যাধুনিক লজিস্টিকস্ ও ইকুইপমেন্ট সরবরাহের সুব্যবস্থা করছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, জেন্ডার গাইডলাইন্স অনুসরণ, নারী সহায়তা কেন্দ্র, শিশু হেল্প ডেস্ক প্রবর্তন, ডিএমপিতে উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন এবং সারাদেশে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জেন্ডার সংবেদনশীল সেবার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী চিন্তার আলোকে পুলিশে ধারাবাহিকভাবে বর্ধিত হারে নারী সদস্য নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। পুলিশের অপারেশনাল ক্ষেত্রসহ নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশে কর্ম পরিবেশের উন্নয়ন, বেবী-ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন, মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা ইত্যাদি জেন্ডার সংবেদনশীল উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা থেকে শুরু করে পুলিশের প্রাত্যহিক কাজের পরিসরে সাইবার ক্রাইম রোধ, আর্থিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আন্তঃদেশীয় অপরাধ ব্যবস্থাপনা, জাতীয় জরুরী সেবা-৯৯৯, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন সংযোজিত হয়েছে। জনগণের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার বিভিন্ন আইনকে সংস্কারের মাধ্যমে যুগোপযোগী করেছে।

আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশের আইজি জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিপথকে সুগম করা ও সচল রাখায় পুলিশের অবদান অনস্বীকার্য। সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদ হ্রাস সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নয়ন, জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নিরলস আন্তরিক প্রচেষ্টার এক উৎকৃষ্ট নিদর্শন। নবীন পুলিশ সদস্যরা মেধা, যোগ্যতা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সর্বোত্তম বিকাশের দ্বারা বাংলাদেশ পুলিশের গৌরব ও অতীত অর্জনকে সমুন্নত রাখবে বলে নবীন ক্যাডেট এসআইদের উদ্দেশ্যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আইজিপি।

এর আগে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ৩৬তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজে ৬৬ জন নারীসহ ১ হাজার ৩২৩ জন শিক্ষানবিশ ক্যাডেট (এসআই) অংশগ্রহণ করেন। প্যারেড পরিদর্শন শেষে বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী পাঁচজনকে পুরস্কার দেন আইজিপি। এর মধ্যে বেষ্ট একাডেমিক ক্যাডেট হিসেবে এসআই রুবিনা ইয়াসমিনকে পদক প্রদান করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর প্রিন্সিপ্যাল ড. মোহাম্মদ নজিবুর রহমান এবং পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সামরিক ও বে-সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি : মাহফুজুর রহমান রুবেল

বাংলার কথা/জানুয়ারি ২৭, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*