Home » অপরাধ ও আইন » দাদির কোলে বসে মাকে খুঁজছে আড়াই বছরের শাপলা
দাদির কোলে বসে মাকে খুঁজছে আড়াই বছরের শাপলা

দাদির কোলে বসে মাকে খুঁজছে আড়াই বছরের শাপলা

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি ০     
মা-বাবার পাশে ঘুমিয়ে ছিল আড়াই বছরের শিশু কন্যা মুসলিমা। ঠান্ডাজনিত অসুখে ভুগছিলেন বাবা মাসুদ। ঘুমন্ত শিশু ও স্বামীকে রেখে পালানোর সুযোগ খুঁজছিলেন মা শাপলা। রাতের কোন এক সময়ে বিছানা ছেড়ে উঠে যেতেই টের পেয়ে যায় শিশু মুসলিমা। মা-মা বলে ডাক চিৎকার করতেই ঘুম ভেঙ্গে যায় অসুস্থ বাবার। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়েছে এমন বিশ^াসে মা আসছে আসছে বলে শিশুকে শান্তনা দিচ্ছিলেন বাবা মাসুদ। কিন্তু সেই চলে যাওয়া মা-আর ফিরে আসেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবেশী এক খালাতো ভাই প্রেমের ফাঁদে ফেলে শাপলা বেগমকে নিয়ে ওই রাতে পাড়ি জমিয়েছে দূর অজানায়। সন্ধ্যান করেও তাদের খোঁজ মেলাতে পারেনি দুই পরিবার। গত ৫ জানুয়ারি রাতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তুলশীপুর চকপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

রোববার (১৩ জানুয়ারি) মাসুদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দাদি মাবিয়ার কোলে বসে ছোট্ট শিশুটি এদিক ওদিক তাকিয়ে কি যেন দেখে চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এরই মাঝে শোনা গেল শিশুটির কন্ঠে মা-মা ডাক, আর কান্না। মাকে ছাড়া এখন কোনো কিছুই ভালো লাগছে না তার। তবুও মিথ্যা আশ^াসে মা আসছে বলে শিশুটিকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন তার দাদি। এসময় তাঁর চোখেও ছিল অশ্রু। শিশুটির দাদির সাথে কথা বলার আগেই পাওয়া গেল বাবা মাসুদকে। তার চোখে মুখে বিষন্নতার ছাপ।

মাসুদ জানান, স্ত্রী চলে যাওয়ার চেয়ে তিনি বেশি মর্মাহত হয়েছেন অবুঝ শিশুটিকে নিয়ে। তাকে কি করে বোঝাবেন তার মা তাকে ফেলে রেখে না বলে রাতের অন্ধকারে মনের মানুষকে নিয়ে চলে গেছে। তিনি জানান, প্রায় ৬ বছর আগে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে একই গ্রামের আত্তাব আলীর মেয়ে শাপলার সাথে তার বিয়ে হয়। একমাত্র কন্যা সন্তান মুসলিমার বয়স এখন আড়াই বছর। ঘটনার দিন রাতে শিশুটির কান্নায় তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। প্রকৃতির ডাকে স্ত্রী শাপলা বাইরে গেছে বলে ভেবেছিলেন তিনি। আধা ঘন্টা অপেক্ষার পরও তার না ফেরা দেখে বাইরে বের হয়ে স্ত্রীকে খুঁজতে শুরু করেন মাসুদ। সারা রাত খোঁজ করেও তার সন্ধ্যান পাননি। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন খালাতো ভাই সেলিমের হাত ধরে পালিয়েছে শাপলা।

মাসুদের মা মাবিয়া বেগম জানান, আত্মীয়তার সূত্র ধরে বাড়িতে উঠা বসা করতো সেলিম। এর মাঝে তারা পরকীয়ায় জড়িয়েছে তা তারা বুঝে উঠতে পারেননি। শাপলা চলে যাওয়ার পর একই গ্রামের আসমত আলীর ছেলে সেলিমকে না পেয়ে তাদের পরকীয়ার বিষয়টি তাঁরা নিশ্চিত হন।

এদিকে সেলিমের বাড়িতে গিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার মা হালিমা বেগম জানান, শনিবার রাতে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে। পরে আর বাড়ি ফিরেনি। ফোন করেও তার কোন খোঁজ পাননি বলে জানান হালিমা। অন্যদিকে শাপলাকে তার বাবার বাড়িতেও পাওয়া যায়নি। তার পিতা আত্তাব আলী জানান, ওই রাতের পর থেকে শাপলা ও সেলিমের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহসীন আলী জানান, তিনি মৌখিকভাবে বিষয়টি শুনেছেন। তবে লিখিত কোন অভিযোগ পাননি। পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেবেন।

বাংলার কথা/নুরুজ্জামান/জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*