Home » উত্তরের খবর » দুর্গাপুরে আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভবনা
দুর্গাপুরে আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভবনা

দুর্গাপুরে আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভবনা

মিজান মাহী, দুর্গাপুর (রাজশাহী) ০
রাজশাহীর দুর্গাপুরের চাষিরা এখন আলুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবছর কনকনে ঠান্ডা সত্ত্বেও ঘনকুয়াশা না থাকায় নাভিধ্বসা ও কান্ড পঁচা রোগ নেই। ফলে এবার আলু চাষিরা আলুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন।

এ বছর ব্যাপকহারে আলু চাষ করেছেন দুর্গাপুরের কৃষকরা। আগের বছরগুলোতে এ সময়ে তীব্র শীত ও ঘনকুয়াশার কারনে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার আলুক্ষেতে ‘নাভিধ্বসা’ (লেট-ব্লাইট) ও কান্ডপঁচা (স্ট্যামরড) রোগের প্রকোপে আলুর মারাত্মক ক্ষতি হলেও এবার এখন পর্যন্ত আলুক্ষেত রয়েছে সর্ম্পূণ রোগমুক্ত ও নিরাপদ। দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক আলু চাষিদের করণীয় সর্ম্পকে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।

উপজেলার হাটকানপাড়ার আলু চাষি মোতালেব হোসেন জানান, তিনি ৫৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে এবার আলু চাষ করেছেন। শুরু থেকে এবার যেন ভাগ্য সহায়। কনকনে ঠান্ডা সত্ত্বেও নাভিধ্বসা ও কান্ডপঁচা রোগ এবং ঘনকুয়াশা না থাকার কারনে আলু গাছের চেহারা অনেক ভালো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়ার কোন বিরুপ প্রতিক্রিয়া হয়নি। তাছাড়া তার জমির আলুসহ আশপাশের প্রায় সব আলুর ক্ষেত এবছর এখন পর্যন্ত অনেক ভালো আছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় চাষিরা জানান, চলিত বছর এখন পর্যন্ত কনকনে ঠান্ডা থাকলেও উল্লেখযোগ্য হারে কুয়াশা ও শিশিরপাত হচ্ছে না বললেই চলে। এজন্য নাভিধ্বসা ও কান্ড পঁচা রোগ নেই আলুতে। তবে সহসা এ ভালো আবহাওয়া কেটে গিয়ে সামনের দিনগুলোতে শৈত্য প্রবাহ চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত আলু ক্ষেতের কোন ক্ষতি হয়-কিনা, তা নিয়েও আলু চাষিরা শংকিত রয়েছেন। বিশেষ করে যারা মৌসুমের শেষ দিকে তাদের জমিতে আলু করেছেন। কিন্তু মৌসুমের প্রথম দিকে যারা আগাম আলু লাগিয়েছেন, এ নিয়ে তাদের কোন দুঃচিন্তা নেই বললেই চলে। ঘনকুয়াশা না থাকার কারনে এখন পর্যন্ত চলমান আবহাওয়া আলু চাষে অনুকুলে রয়েছে। ফলে এবার আলুর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চলিত মৌসুমে ২ হাজার  ৯ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে অতিরিক্ত ৫শ’ হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদ হয়েছে।

দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ জানান, তিনি প্রায় ১ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করেছেন। উচ্চ দামে আলু বীজ কিনে আলু রোপণ করা হয়েছে। শুরুতেই আলুর গাছের পরিপক্কতা দেখে খুব ভালো মনে হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে এবার গতবারের চেয়ে লাভের অংক একটু বেশি হবে।

দাউকান্দি গ্রামের অর্ধশত বিঘা জমিতে আলু চাষকারি স্কুল শিক্ষক মুনতাসির রাজু জানান, এবার ঘন কুয়াশা না থাকায় কনকনে ঠান্ডায় আলুর গাছের চেহারা ভালো দেখা যাচ্ছে। পুরো উপজেলায় যে পরিমাণ আলু চাষ করা হয়েছে, তার প্রায় সব জমিতে এখন পর্যন্ত আলু গাছের পরিপক্কতা ভালো রয়েছে।

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মসিউর রহমান জানান, উপজেলার আলু চাষিরা এখন আলুক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যে চাষিদের ঘরে আলু তোলা সম্ভব হবে। আর বাকি আলুগুলো চলিত মাসের শেষের দিকে উঠবে। উপজেলায় প্রায় এলাকায় এবার আলুর ক্ষেত ভালো হয়েছে। এবার এখন পর্যন্ত বৈরি আবহাওয়া না হওয়ায় চালু চাষিরা বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক আলুচাষিদের সহায়তা প্রদান করছেন।

বাংলার কথা/মিজান মাহী/জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*