Home » উত্তরের খবর » নিহত, বর্জন ও সাময়িক স্থগিতে শেষ রাজশাহীর নির্বাচন
নিহত, বর্জন ও সাময়িক স্থগিতে শেষ রাজশাহীর নির্বাচন

নিহত, বর্জন ও সাময়িক স্থগিতে শেষ রাজশাহীর নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক ০
ভোট বর্জন ও বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হলো রাজশাহীর ছয়টি আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। রোববার (৩০ ডিসেম্বর) রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে কেন্দ্র দখল, সাময়িকভাবে ভোট স্থগিত ও সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত ২২ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত দুইজনের মধ্যে মেরাজুলকে আওয়ামীলীগ তাদের কর্মী দাবি করলেও স্বজনদের দাবি কোন দল করেন না মেরাজুল।

নিহতরা হলেন, তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের মোদাচ্ছের আলী (৫০) ও মোহনপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মেরাজুল ইসলাম (২২)।

এদিকে, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের বিএনপি প্রার্থী আবু হেনা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই ঘোষণা দেন।

নির্বাচন স্থগিতের দাবি জানিয়ে আবু হেনা বলেন, তার এলাকায় কেন্দ্র দখল করে জালভোটের উৎসব চলছে। নৌকার সমর্থকরা ধানের শীষের সমর্থকদের কেন্দ্রে ঢুকতে দিচ্ছে না। সাধারণ ভোটারদেরও জান-মালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। হানাহানি বন্ধে তিনি নির্বাচন বর্জন করছেন।

রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের দুটি কেন্দ্রে সাময়িকভাবে ভোট স্থগিত করা হয়। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল আক্তার জানান, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের কারণে গোদাগাড়ীর একটি কেন্দ্রে বেলা ১১টায় সাময়িকভাবে ভোট স্থগিত করা হয়। এছাড়া রাজাবাড়িহাট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে একই কারণে দুপুর ১২টার দিকে ভোট স্থগিত করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর এ দুটি কেন্দ্রে আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

এদিকে, মোহনপুরে কেন্দ্র দখল নিয়ে সংঘর্ষে মেরাজুল ইসলাম (৩০) নামে একজন নিহত হন। নিহত মেরাজুল আওয়ামী লীগের কর্মী বলে দাবি করেছেন বর্তমান এমপি ও আওয়ামীলীগ প্রার্থী আয়েন উদ্দিন। তবে মেরাজুলের চাচা মকবুল বলেন, মেরাজুল কোন দল করে না। কিন্তু তারা পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন।

দুপুর ১২টার দিকে তানোর উপজেলার একটি কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্র দখল নেয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপির হামলায় মোদাচ্ছের আলী (৪০) নিহত হন। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোরশেদ আলী মৃধা জানান, ঘটনার পরে ভোটগ্রহণ স্থগিত ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রাজশাহী-১ আসনের তানোরে উপজেলা সদরের তানোর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও তানোর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র দখল করে নৌকার কর্মীরা। পুলিশের সামনেই জালভোট দেয়ার সময় ধানের শীষের এজেন্টরা তাদের বাঁধা দেন। ঘটনা জানাজানি হলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই ঘটনায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পুলিশ গুলি ও টিয়ার শেল ছুঁড়ে বিশৃংখলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। বিষয়টি স্বীকার করলেও এনিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম।

এছাড়া রাজশাহী-২ আসনের নগরীর কোর্ট মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বের হয়ে যাওয়ার পরে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নগরীর সপুরায় বিএনপি-আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

রাজশাহী মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হাসনাইন হিকোল জানান, বিএনপি প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে যান। সেখান থেকে তিনি বের হয়ে যাওয়ার পরই কয়েকটি হাতবোমা হামলার ঘটনা ঘটে। যুবদল নেতা হিকোল অভিযোগ করেন, ওই ঘটনার পর পুলিশ ওই কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের মারপিট করে বের করে দেন।

এর আগে সকালে নগরীর বিনোদপুরের ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজে আওয়ামীলীগ-বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

রাজশাহী-৩ আসনের পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট শুরুর পর পরই ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় কিছু ভোটাদের ধাওয়া দিয়ে সাঁওতাল পাড়ায় রেখে আসে আওয়ামীলীগের কর্মীরা। পরে সকাল ১১টার দিকে ফের স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা একই কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থক ভোটারদের ধাওয়া দেয়। এতে মাঠ ফাঁকা হয়ে যায়।

এর আগে একই উপজেলার পূর্বপুঠিয়াপাড়া এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসময় পালাতে গিয়ে মৃত হেলেন আলীর ছেলে খসরু (৪৫) আহত হন। স্থানীয়রা জানান, আহত খসরুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাংলার কথা/ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*