Home » অপরাধ ও আইন » রাবি ছাত্রলীগের ২ নেতার বিরুদ্ধে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ
রাবি ছাত্রলীগের ২ নেতার বিরুদ্ধে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ

রাবি ছাত্রলীগের ২ নেতার বিরুদ্ধে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ

রাবি সংবাদদাতা ০
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৬ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মানিব্যাগ ও অর্ধ লক্ষাধিক টাকা সমমূল্যের পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদার বখশ হলের ২৩৩ নম্বর কক্ষ থেকে জুয়া খেলা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের আটক করে ওই দুই নেতাকর্মী তাদের ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় বলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। তবে অভিযুক্তদের দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যা নেয়া হয়েছিল সবই ফেরত দেয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন- দর্শন বিভাগের মাস্টার্সের রবিউল ইসলাম, গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের বেলাল হোসেন, ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের উজ্জল হোসেন, অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইশতিয়াক আহমেদ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মাহফুজুর রহমান ও গণিত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মো. রাশেদ।

আটকের পর তাদের রাতেই থানায় নেয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রবিউল ইসলামের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

অপরদিকে অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল কুমার অর্ক এবং মাদার বখশ হল ছাত্রলীগের কর্মী শুভ্র। এর আগেও ওই হলে এক শিক্ষার্থীকে গাজা সেবনের অভিযোগ দিয়ে মারধর করেছিলেন শুভ্রসহ এক ছাত্রলীগ নেতা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উজ্জ¦ল অন্যদের সঙ্গে নিয়ে তার বন্ধু মেহেদির কক্ষে টাকা দিয়ে কার্ড খেলছিলেন। ওই কক্ষে ল্যাপটপে কাজ করছিলেন রবিউল। এ সময় রাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাদীদ মুনতাসির এলাহী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন, মেহেদি হাসান সজল, সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক, ছাত্রলীগ কর্মী শুভ্রসহ কয়েকজন ওই কক্ষে আসেন এবং তাদের আটক করেন। এসময় তাদের মারধর করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে তাদের কাছ থেকে পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, চারটি অ্যানালগ ফোন এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় অর্ক ও শুভ্র। পরে হল প্রাধ্যক্ষ ফোন ও মানিব্যাগ ফিরিয়ে দিতে বললে অর্ক শুধুমাত্র চারটি নরমাল ফোন ও মানিব্যাগ ফিরিয়ে দেয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রত্যেকের মানিব্যাগেই পাঁচ-সাত শ’ করে টাকা ছিল। কিন্তু তাদেরকে টাকাশূন্য মানিব্যাগ ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী রবিউল বলেন, ‘আমার ভাইয়ের দেয়া বিদেশি কিছু ডলার মানিব্যাগে ছিল। সেগুলোও নেই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্ক বলেন, ‘হলে জুয়া খেলা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে আমরা তাদেরকে আটক করে হল প্রাধ্যক্ষকে খবর দেই। তাদেরকে দুয়েকটি চড়-থাপ্পড় দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে আমিই ফোন ও মানিব্যাগ নিয়েছিলাম, সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি।’

ভুক্তভোগী রাশেদ ও মাহফুজ বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে শুভ্র ফোন ও মানিব্যাগ নিয়েছিল।’ তবে শুভ্র ফোন ও মানিব্যাগ নেয়ার বিষয়টি প্রথমে স্বীকার করলেও চঞ্চল কুমারের বক্তব্যের পর তিনি তা অস্বীকার করেন।

জানতে চাইলে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘বিষয়টি শোনার পর আমি হলে গিয়েছি। আটককৃতদের মধ্যে আমার হলের দুজন ছিলো। জুয়া খেলার জন্য তাদের বিরুদ্ধে আমরাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। বাকিদের বিষয়টি প্রক্টর দেখবেন। ফোন ও মানিব্যাগের বিষয়টি নিয়েও ছাত্রলীগের সঙ্গে কথা বলব।’

রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জুয়া খেলা অবস্থায় কয়েকজনকে আটক করে হল প্রাধ্যক্ষের হাতে তুলে দিয়েছে। তবে ফোন নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। এ বিষয়ে আমি নেতাকর্মী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলব।’

মতিহার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, ‘বুধবার রাতে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে থানায় এনেছিল। আজ বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে সহকারী প্রক্টর রবিউল ইসলামের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দিয়েছি।’

বাংলার কথা/সাইফ সাইফুল্লাহ/ডিসেম্বর ১৯, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*