Home » অপরাধ ও আইন » রাবি ছাত্রলীগ নেতা সুষ্ময় আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা
রাবি ছাত্রলীগ নেতা সুষ্ময় আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

রাবি ছাত্রলীগ নেতা সুষ্ময় আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

রাবি সংবাদদাতা 0
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরুল জামিল সুষ্ময়ের বিভিন্ন অপকর্মে ক্যাম্পাস জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি, পরিবহন প্রশাসককে লাঞ্চনা ও বাস চালককে মারধর, ক্যাম্পাসে আম-লিচু বাগান দখল, শিক্ষার্থী-সাংবাদিককে মারধরসহ বিভিন্ন অপকর্মে ক্যাম্পাসে এখন আতঙ্কের নাম ‘সুষ্ময়’। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের প্রমাণ থাকা সত্ত্বে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেয়ার সুষ্ময়ের কুকর্ম বেড়ে যাচ্ছে বলে দাবি করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা সুষ্ময়ের কর্মকা-ে বিব্রত ¯¦য়ং ছাত্রলীগের একাধিক সিনিয়র নেতা। তারা বলছেন, সুষ্ময় ছাত্রলীগের অর্জিত সুনাম নষ্ট করার জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব কর্মকা-ে জড়াচ্ছে। কিন্তু ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক বিষয়টি বুঝেও না বুঝার ভান করছে। এছাড়াও বিশ্বকিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় অরাজকতা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিতে সুষ্ময় দায়ী বলে দাবি করছেন তারা।

সুষ্ময়ের কর্মকা-ের সম্পর্কে বিশ্ববিদালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কাজী লিংকন বলেন, কম্পাসে ঘটে যাওয়া একাধিক ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সুষ্ময়ের নাম জরিত রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিককের উপর হামলার ঘটনাটি লজ্জাজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চাইলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এখানে আমাদের কিছু করার নাই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ দফতরের প্রশাসককে মারধর করার অভিযোগ উঠে ছাত্রলীগ নেতা সুষ্ময়ের বিরুদ্ধে। সেসময়ে পরিবহণ দফতরের প্রশাসক প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছিল। কিন্তু তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চলতি বছরের গত ৩০ মে ক্যাম্পাসে টেন্ডার ছাড়াই আম ও লিচু বাগান অবৈধভাবে দখলে নেয় ছাত্রলীগ নেতা সুষ্ময়। যদিও বাগানগুলো দেখভালের দায়িত্বে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্পের। এঘটনার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে শোকজও করেছিল। একই সময় সুষ্ময়সহ ১২ জন ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ছাত্রী উত্যক্তে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছিল। এরপর ২০ নভেম্বর ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বাস চালককে মারধর করেন সুষ্ময়।

শুধু তাই নয়, দলীয় কোন্দলের ঘটনায়ও সুষ্ময়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত ২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনা ঘটে। এসময় সাবরুন জামিল সুষ্ময়ে নেতৃত্বে ১০-১২ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মারধরের ঘটনা ঘটে।

সুষ্ময়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘সুষ্ময়ের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এসেছিল। আমরা সেগুলো তদন্ত করেছি। দুই-এক দিন আগে সাংবাদিক মারধরের বিষয়েও একটি অভিযোগ পেয়েছি। প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এবিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে কয়েকদিন আগে সিনেমা দেখাকে কেন্দ্র বাম জোটের সঙ্গে একটা ঝামেলার কথা শুনেছিলাম। অণ্র বিষয়গুলো আমার জানা নাই। অভিযোগ সত্য হলে আমরা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিব।’

বাংলার কথা/সাইফ/০২ ডিসেম্বর ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*