Home » জাতীয় খবর » উদ্বেগ বাড়ছে বিএনপিতে
উদ্বেগ বাড়ছে বিএনপিতে

উদ্বেগ বাড়ছে বিএনপিতে

বাংলার কথা ডেস্ক ০

নির্বাচন কমিশনসহ (ইসি) বিভিন্ন মহল থেকে বিএনপিকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ব্যাপারে। কিন্তু দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বিএনপি নেতারা বলছেন, এখনো তাদের নেতা-কর্মীদের ধড়পাকড় চলছে। কারও কারও বিরুদ্ধে দেওয়া হচ্ছে মামলা। বন্ধ হয়নি হয়রানিও।

 

এ অবস্থায় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। ইসির কার্যক্রমে সেরকম কোনো আলামতও তারা দেখছেন না। স্বাভাবিকভাবেই ইসি ও প্রশাসনের ভূমিকায় দলটির নেতাদের উদ্বেগ বাড়ছে।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় এ বিষয়ে বলেন, দেশে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। বিরোধী নেতাকর্মী-সমর্থক কেউই রেহাই পাচ্ছেন না। তার পরও মানুষ এবার পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ধানের শীষের জোয়ার নেমেছে, এতে সরকার শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারা মনে করছেন, নিরপেক্ষ ভোট হলে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত। জনগণের এই জোয়ার ঠেকাতে গ্রেপ্তার ও মামলা আরও বেড়েছে।

 

দলটির নেতারা শঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের ইশারায় দিন দিন গ্রেপ্তার-নির্যাতন আরও বাড়বে। ধানের শীষের জোয়ার ঠেকাতে প্রতীক বরাদ্দের পর নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়িয়ে দিতে পারে সরকার। এটাই হতে পারে বিএনপির বিরুদ্ধে সরকারের মরণকামড়।

 

বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) বিকালে গুলশানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। সেখানেও আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃষ্টি না করা এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও মামলা দায়েরসহ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির প্রধান অন্তরায় বলে ইইউর প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়েছে। দলের মনোনীত প্রার্থীদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নেতারা তুলে ধরেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির পক্ষে নেতৃত্ব দেন। ঢাকায় ইইউর রাষ্ট্রদূত রেনজিং টিরিংকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ডেভিড নোয়েল ওয়ার্ড ও ইরিনি মারিয়া গোনারি ছিলেন।

 

বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, গত বুধবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে ঢাকা-৭ আসনের মোশাররফ হোসেন খোকন নিখোঁজ হন। পুলিশ বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়েছে। ধানের শীষ প্রতীকের নরসিংদী-১ আসনের প্রার্থী খায়রুল কবির খোকন ও মাগুরা-১ আসনের বিকল্পপ্রার্থী মনোয়ার হোসেনকে পৃথক মামলায় বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়াও ধানের শীষ প্রতীকের ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী সম্পদের তথ্যবিবরণী দাখিল না করা সংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনকে চার সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন হাইকোর্ট।

 

এর আগে ঢাকা-৩ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড শেষে তাকে আদালত কারাগারে পাঠান। এখন পর্যন্ত তিনি কারাগারে। এ ছাড়াও প্রার্থীদের মধ্যে কারাগারে আছেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের আসলাম চৌধুরী, পাবনা-৫ আসনের শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, রাজশাহী-৬ আসনের আবু সাইদ চাঁদ, চাঁদপুর-১ আসনের এহছানুল হক মিলন। সম্প্রতি তথ্যবিবরণী দাখিল না করা সংক্রান্ত দুদকের একটি মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার বিরুদ্ধে আদালত সাজা দিয়েছেন।

 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এসব আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে একতরফাভাবে করারই আলামত।

 

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯০ হাজার ৩৪০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ২৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৭ আসামি। তাদের মধ্যে কারাগারে আছেন ৭৫ হাজার ৯২৫ নেতাকর্মী। এই তালিকা নির্বাচন কমিশনে গত ১৮ নভেম্বর বিএনপি জমা দিয়েছে। জানা গেছে, প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু চৌধুরীসহ ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

 

বিএনপি অভিযোগ করে, গত বুধবার মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার পর ঢাকা-৭ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মোশাররফ হোসেন নিখোঁজ হন। ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোশাররফ হোসেন খোকনকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করেছে লালবাগ থানাপুলিশ। বৃহস্পতিবার মোশাররফকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে হাজির করে দশদিন রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত মোশাররফকে দুদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন।

 

যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, তিনি ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তার সঙ্গে দেখা করার জন্য বৃহস্পতিবার জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা চারটি মাইক্রোবাসে করে চরফ্যাশনে আসছিলেন। কিন্তু তারা লালমোহনের ডাওরী বাজারে পৌঁছলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গাড়িতে হামলা চালায়। এতে ১২ জন আহত হন। তাদের ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে গিয়ে পুলিশ হয়রানি করে।

 

এ ছাড়াও বিএনপি অভিযোগ করেছে, কুমিল্লার বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান ভূঁইয়াকে ঢাকার কাকরাইল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। চট্টগ্রাম মহানগরের বিএনপি নেতা মোশাররফ হোসেন জামালকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ঢাকা মহানগর উত্তর, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হেনা আলাউদ্দিনের শান্তিনগরের বাসায় ডিবি পুলিশ তল্লাশির নামে ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে। তেজগাঁও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা আব্দুল্লাহ আল তামিম গাজীপুর জেলে গত বুধবার মারা যান। কয়েকদিন ধরে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসা সার্বক্ষণিক ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বাসায় ঢোকা ও বের হওয়ার সময় নেতাকর্মীদের লাগাতার গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

 

এ প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে জনগণের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন সরকারপ্রধান। জনগণের অগ্রযাত্রাকে বলপূর্বক প্রতিহত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেআইনি সংগঠনে পরিণত করা হয়েছে। তারা রক্তপিপাসুর মতো বীভৎস দমনকার্য চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধী দলের ওপর।

 

সূত্র: আমাদের সময়/বাংলার কথা/নভেম্বর ৩০, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*