Home » খেলাধুলা » অল্প পুঁজিতেও দারুণ জয় বাংলাদেশের
অল্প পুঁজিতেও দারুণ জয় বাংলাদেশের

অল্প পুঁজিতেও দারুণ জয় বাংলাদেশের

বাংলার কথা ডেস্ক ০

চলতি বছরের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে নাস্তানাবুদ হয়ে ফিরেছিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজে ক্যারিবীয়দের কাছে পাত্তাই পায়নি টাইগাররা। হেরে গিয়েছিল দুটিতেই। চার মাস পর ঘরের মাঠে সেই হারের প্রতিশোধ নিল সাকিব আল হাসানের দল।

 

লক্ষ্য মাত্র ২০৪ রান। চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্বাগতিক স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দলীয় মাত্র ১১ রানেই চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বসে। সে অবস্থা থেকে আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি ক্যারিবীয় দলটি। ৬৪ রানের ব্যবধানে হেরেই মাঠ ছড়াতে হয়েছে অতিথি দলটিকে।

 

আজ শনিবার (২৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের তৃতীয় দিনে ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৩৯ রানে দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাইজুল ইসলাম ও সাকিব আল হাসানের বোলিং তোপেই উড়ে যায় ক্যারিবীয় দলটির ব্যাটিং লাইন। ঘরের মাঠে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে এটি টাইগারদের প্রথম জয়। আর সবমিলিয়ে তৃতীয় জয়। তাছাড়া ক্রিকেটের এই দীর্ঘ সংস্করণে বাংলাদেশের ১৩তম জয় এটি।

 

দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেয়া ২০৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টাইগারদের পক্ষে ৬ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। আর সাকিব ও মিরাজ পান দুটি করে উইকেট। অবশ্য এই ম্যাচে সাকিব দারুণ একটি কীর্তি গড়েছেন। টেস্টে ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২০০ উইকেট ও তিন হাজার রান নিয়েছেন তিনি।

 

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। সাকিব-তাইজুলের ঘূর্ণিতে মাত্র ১১ রানের চার উইকেট হারায় সফরকারীরা। ইনিংসের শুরুতেই জোড়া আঘাত আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব। তৃতীয় ওভারের ৪ নম্বর ডেলিভারিতে কাইরন পাওয়েলকে (০) ফেরান তিনি। আর এই উইকেটের মাধ্যমে প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে টেস্টে দুইশ উইকেট নেয়ার কীর্তি গড়েন বাঁহাতি এই স্পিনার। তাছাড়া ২০০ উইকেট এবং ৩০০০ রান নিয়ে অভিজাত ক্লাবের সবাইকে ছাড়িয়ে যান তিনি। ১৪ জনের এই ক্লাবে সবচেয়ে কম ম্যাচ(৫৪) ম্যাচ খেলে সবার উপরে জায়গা করে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

 

পাওয়েলের পর শাই হোপকেও টিকতে দেননি সাকিব। দারুণ ডেলিভারিতে মাত্র ৩ রানে হোপকে সাজঘরে পাঠান তিনি। সাকিবরে পর দৃ্শ্যপটে তাউজুলের আগমণ। এক ওভারে পরপর দুই ব্যাটসম্যানকে ফেরান তিনি । নিজের প্রথম ওভারের  প্রথম ডেলিভারিতেই ওপেনার ব্রাথওয়েট (৮) এবং পঞ্চম ডেলিভারিতে রোস্টন চেজকে (০) প্যাভিলিয়নের পথ দেখান তাইজুল।

 

৪ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে লাঞ্চের পর আরো চেপে ধরেন বাংলাদেশি স্পিনাররা। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত খেলা শিমরন হেটমায়ারকে থামান মেহেদী হাসান মিরাজ। ফেরার আগে ১৯ বলে ৩ চার এবং ১ ছক্কায় ২৭ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

 

প্রতিরোধগড়া শেন ডওরিচকে (৫) নিজের তৃতীয় শিকার বানান তাইজুল। খানিক বাদে তুলে নেন দেবেন্দ্র বিশুকেও (২)।  পরের ওভারে কেমার রোচকে এলবির ফাঁদে ফেলে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তাইজুল। এ নিয়ে টানা তিন টেস্টে অন্তত এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখালেন বাঁহাতি স্পিনার।

 

এরপর নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অ্যামব্রিস এবং ওয়ারিক্যান। দুজন মিলে গড়ে তুলেন ৬৩ রানের জুটি। বল হাতে এসে ওয়ারিক্যানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মিরাজ। ওয়ারিক্যানের পর আর বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না ক্যারিবীয় ইনিংস। সুনীল অ্যামিব্রিসকে নিজের ষষ্ঠ শিকার বানিয়ে অতিথিদের ১৩৯ রানে থামান তাইজুল ইসলাম।

 

 

এদিকে, ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ৩২৪ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করে ২৪৬ রান। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকরা ৭৮ রানে লিড পেয়েছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিবরা মাত্র ১২৫ রান করলে প্রতিপক্ষের সামনে দুই শতাধিক রানের লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়া সম্ভব হয়।

 

অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাও আত্মহত্যার মিছিলে অংশ নিয়েছিল। ইমরুল কায়েস (২), সৌম্য সরকার (১১), মুমিনুল হক (১২), মোহাম্মদ মিঠুন (১৭) ও সাকিব আল হাসান (১) আগেরদিনই সাজঘরে ফিরেন। মাহমুদউল্লাহ ছাড়া সবাই আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন। এই ইনিংসে তিনি সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন।

 

এর আগে অভিষিক্ত স্পিনার নাঈম হাসানের বোলিং তোপে ক্যারিবীয় দলটির প্রথম ইনিংস ২৪৬ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল। তিনি একাই পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে ইতিহাস গড়েন। এ ছাড়া সাকিব আল হাসান তিনটি এবং তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট পান।

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের হয়ে শিমরন হেটমায়ার (৬৩) ও শেন ডাওরিচ (৬৩) ছাড়া কেউই দৃঢ়তা দেখানে পারেননি। অন্যরা একরকম আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন।

 

আর মুমিনুল হকের চমৎকার সেঞ্চুরির পোপর ভর করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩২৪ রান করে। যদিও শুরুটা ভালো হয়নি। ম্যাচের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে সাজঘরে ফিরে যান ওপেনার সৌম্য সরকার (০)। বেশ কিছুদিন পর ফিরে দলের শুরুটা ভালো এনে দিতে পারেননি এই বাঁহাতি ওপেনার। আরেক ওপেনার ইমরুল ফেরেন ৪৪ রান করে। বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি মোহাম্মদ মিঠুনও (২০)।

 

পরে মুমিনুল ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি করে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখিয়ে ছিলেন। খেলেন ১২০ রানের চমৎকার একটি ইনিংস। এই সেঞ্চুরি করে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন তামিম ইকবালকে। দুজনেরই এখন আটটি করে টেস্ট শতক।

 

 

তবে একটি জায়গায় এগিয়ে মুমিনুল। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ছয়টি সেঞ্চুরি করেন তিনি। যেখানে তামিমের একটি।

 

তবে মুমিনুল সাজঘরে ফেরার পরই বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের আশা শেষ হয়ে যায়। এরপর পরই অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম (৪) দ্রুত ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দল।তাঁর পথ ধরে দ্রুত ফিরে যান মাহমুদউল্লাহও (৩)।

 

তখনো ভরসা ছিল সাকিব পিচে আছেন। কিন্তু তিনিও ৬৮বলে ৩৪ রানের একটি ইনিংস খেলে আউট হলে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দল।

 

তবে নবম উইকেটে তাইজুল ইসলামও অভিষিক্ত নাঈম হাসান দারুণ দুটি ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই ইনিংসেও ভালো কিছু করা সম্ভব। তাইজুল ৩৯ রানে অপরাজিত থাকলেও নাঈম ২৬ রান করে আউট হন।

 

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩২৪

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২৪৬

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ১৭ ওভারে ১২৫ (ইমরুল ২, সৌম্য ১১, মুমিনুল ১২, মিঠুন ১৭, সাকিব ১, মুশফিক ১১*, মিরাজ ১৮, মাহমুদউল্লাহ ৩১, নাঈম ৫,  তাইজুল ১, মোস্তাফিজ ২; , ওয়ারিক্যান ১৬/২, চেজ ১৮/৩, বিশু ২৬/৪)

 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: ১৩৫ অলআউট (ব্র্যাথওয়েট ৮, কাইরন পাওয়েল ০,শাই হোপ ৩, আমব্রিস ৪৩, চেজ ০, হেটমায়ার ২৭, ডাওরিচ ৫, বিশু ২ , রোচ ১, ওয়ারিক্যান ৪১ , গ্যাব্রিয়েল ০*; মিরাজ ২৭/২, তাইজুল ৩৩/৬ , সাকিব ৩০/২ , নাঈম )।

 

সূত্র: এনটিভি অিনলাইন ও ঢাকা টাইমস/বাংলার কথা/নভেম্বর ২৪, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*