Home » উত্তরের খবর » রাজশাহী-৩ আসনে আসাদের মনোনয়ন সংগ্রহ
রাজশাহী-৩ আসনে আসাদের মনোনয়ন সংগ্রহ

রাজশাহী-৩ আসনে আসাদের মনোনয়ন সংগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক ০

পবা ও মোহনপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৩ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাঃ আসাদুজ্জামান আসাদ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আজ শুক্রবার (৯ নভেম্বর) দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রথম দিন তার পক্ষে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ফারুক হোসেন ডাবলু ও উপ-দপ্তর সম্পাদক প্রভাষক শরিফুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশের নতুন ভবন থেকে এই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

 

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর মোহাঃ আসাদুজ্জামান আসাদ পবা ও মোহনপুর উপজেলার সকল শ্রেণী পেশার মানুষের দোয়া কামনা করেন।

 

ছাত্ররাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু মোহাঃ আসাদুজ্জামান আসাদের। এসএসসি পরীক্ষার আগে তিনি নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। এরপর রাজশাহী সিটি কলেজে পড়াকালে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। পরে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি নির্বাচিত হন। ছাত্রলীগের পর যুবলীগ এবং পর্যায়ক্রমে মূল দলে আসেন তিনি।

 

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ফারুক হোসেন ডাবলু ও উপ-দপ্তর সম্পাদক প্রভাষক শরিফুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের পাশের নতুন ভবন থেকে এই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

 

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মোহাঃ আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আওয়ামী লীগে অনেকই আছেন, যাঁরা সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ। তাঁরা যে যার মতো নৌকার পক্ষে কাজ করবেন। তবে আমাদের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। নেত্রী যাকে নৌকা দেবেন, তাঁর পক্ষেই আমরা সকলে একাট্টা হয়ে কাজ করব। আর আমি আমার নিজের বিষয়ে বলতে চাই, ভোটের হিসাবে মোহনপুরে নৌকা প্রথম হয়। পবায় এসে আমাদের ব্যাপক একটি ব্যবধান হয়ে যায়। পবা উপজেলার হড়গ্রাম, হরিপুর, দামকুড়া, দর্শনপাড়া ও হুজরিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুর্বল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। আমি যদি প্রার্থী হই, তাহলে এ অঞ্চলে ব্যবধানটা থাকবে না। কারণ, আমার প্রতি এসব অঞ্চলের মানুষের একটা বিশ্বাস আছে। এটি রাজনৈতিক বিবেচনায় না, ব্যক্তি মানুষ হিসেবে তাদের প্রতি আমার যে শ্রদ্ধা এবং আমার প্রতি তাদের যে মমত্ববোধ, তা থেকে আমি মনে করি এই অঞ্চলের ভোট আমি বেশি পাব।

 

দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং এমপি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে কি করবেন, এমন এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, পবা-মোহনপুরের সবচেয়ে বড় সমস্যা মাদক। যেহেতু পবা সীমান্তবর্তী একটি এলাকা, এখানে মাদকের একটি বিশাল সিন্ডিকেট কাজ করে। এখন পর্যন্ত এই সিন্ডিকেট মাথা নত করেনি। এই মাদক নির্মূলের বিষয়টি হবে আমার মূল পরিকল্পনার একটি। এখানে কিছু প্রাগৈতিহাসিক সম্পদ আছে। এগুলো যদি সংস্কার করা যায়, তাহলে এই এলাকা পর্যটন এলাকা হিসেবেও ঘোষিত হতে পারে। আমার সেই চেষ্টা থাকবে। দারুশা অঞ্চলে একসময় দাঙ্গা হয়েছিল, অনেক মানুষকে সে সময় হত্যা করা হয়েছিল, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাতে সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ করতে চাই। পবা উপজেলায় রাস্তার পাশে বেশকিছু খাল আছে, এসব খালের দুপাশে সরকারি জমি আছে। এগুলো পুনরুদ্ধার করে যদি বিনোদন কেন্দ্র করা যায়, তাহলে একদিকে মানুষের আয় বাড়বে, অন্যদিকে মানুষ নির্মল প্রশান্তির জায়গা খুঁজে পাবে।

 

পবা-মোহনপুর উপজেলা ধীরে ধীরে বাণ্যিজ্যিক এলাকায় পরিণত হচ্ছে, এখানে অনেকগুলো কলকারখানা তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে পাটকল, আলুর হিমাগার। এসব জায়গায় আরো কীভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো যায়, সেসবের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা করা হবে। আমি মনে করি, এই পরিকল্পনা গ্রহণ করার ক্ষমতা, দক্ষতা আল্লাহ আমাকে দিয়েছে। আমি যদি এই আসনের সংসদ সদস্য হই এবং শেখ হাসিনা যদি আবারও প্রধানমন্ত্রী হন, তাহলে এসব প্রকল্প আমি তার কাছ থেকে আদায় করে নিতে সক্ষম হবো।

 

বাংলার কথা/নভেম্বর ০৯, ২০১৮

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*