Home » জাতীয় খবর » ‘সংকট আরও কঠিন, আরও ভয়াবহ’
‘সংকট আরও কঠিন, আরও ভয়াবহ’

‘সংকট আরও কঠিন, আরও ভয়াবহ’

নিজস্ব প্রতিবেদক ০
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া নির্বাচনের তফসিল গ্রহণযোগ্য হবে না মন্তব্য করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখন সংকট আরও কঠিন, আরও ভয়াবহ। আন্দোলনের মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি আদায় করতে হবে। আজ শুক্রবার (৯ নভেম্বর) বিকালে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, সময় খুব সংকীর্ণ, সংকট আরও কঠিন,  আরও ভয়াবহ। আজকে প্রশ্ন বাংলাদেশে গণতন্ত্র থাকবে কি থাকবে না। প্রশ্ন বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে পারবে কি পারবে না। আমাদের কথা বলার অধিকার, ভোট দেওয়ার অধিকার থাকবে কি থাকবে না, সংগঠন করার অধিকার থাকবে কি থাকবে না, এসব এখন মৌলিখ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে তিনি সমাবেশে যোগ দিতে পারেননি। তবে মুঠোফোনে তিনি সমাবেশে যোগদাগানকারী নেতাকার্মীদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আমরা সংলাপে গিয়ে নির্বাচনের তফসিল পেছানোর দাবি করেছিলাম, কিন্তু আমাদের কথা না শুনে তফসিল দিয়েছে। তড়িঘড়ি করে তফসিল ঘোষণার ফলে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটবে না। সমাবেশে উপস্থিত হতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরবর্তী কর্মসূচিতে অবশ্যই তিনি রাজশাহী আসবেন।

 

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে আপনারা সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। পথে পথে বাধা অতিক্রম করে আপনারা গণতন্ত্রের জন্য এসেছেন। এখন সংকট আরও কঠিন, আরও ভয়াবহ। আজকে প্রশ্ন, গণতন্ত্র থাকবে কি থাকবে না। আমাদের কথা বলার অধিকার, ভোট দেওয়ার অধিকার থাকবে কি না, তা প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, খালেদা জিয়াকে এই স্বৈরাচার সরকার আটকে রেখেছে। তিনি অসুস্থ, হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল, সেখান থেকে তাঁকে জেলখানায় নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছর ধরে গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি। তারা পুলিশ দিয়ে, বন্দুক-পিস্তল দিয়ে মানুষকে গণতন্ত্রের অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছে।’ বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা ঐক্য করেছি, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে মিটিংয়ে বলেছিলেন, আমি হিংসা চাই না, শান্তি চাই। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করবেন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সংলাপে দাবি দিয়ে এসেছি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। কিন্তু তারা তা করেনি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা জানি আপনারা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্যেই আপনাদের এাি ত্যাগ। মামলা হামলায় আপনারা জর্জরিত। এখানে একজনও নেই যার বিরুদ্ধে মামলা নেই। মির্জা ফখরুল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করে বলেন, তাহলেই আমরা নির্বাচনে যাবো। নইলে নির্বাচনে যাব না। দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তাকে নির্বাচনের মাঠে কাজ করতে দিতে হবে। অন্যথায় কোনো তফসিল গ্রহণযোগ্য হবে না। রাজশাহী থেকে অনেকে রক্ত দিয়ে বিদায় নিয়েছে। তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।

মির্জা ফকরুল তার বক্তব্যে বলেন, জানতে চাই আপনারা কি দেশনেত্রীর মুক্তি চান? তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে চান, গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা চান? তাহলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলন করেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে।

 


জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট রাজশাহীর সমন্বয়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে  সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপিতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, উপদেষ্টা এসএম আকরাম, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত-উল্লাহ বুলু,  ব্যারিস্টার আমিনুল হক, মোঃ শাহজাহান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার, প্রমুখ।  সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএনপির রাজশাহী বিভঅগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

সমাবেশে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে যেতে চাই, আমাদের উসকানি দেবেন না। ৭ দফা না মানলে দেশে নির্বাচন হবে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ, তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসা ছাড়াই জোড় করে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার কি দোষ ছিল, তিনি দেশের জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করছিলেন। সেজন্য এই সরকার তাকে কারাগারে রেখেছে। কারণ এই সরকার জনগণকে ভয় পায়। তার ৫ জানুয়ারি প্রহসন করে গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে। ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতিকে কিভাবে ঘার ঘরে বের করে দিয়েছে তা আপনারা দেখেছেন।  সেই প্রধানবিচারপতি লিখেছে যে দেশের প্রধানবিচারপতি ন্যায় বিচার পায় না, সে দেশের জনগণ কিভাবে ন্যায় বিচার পাবে। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন খালেদা জিয়া বয়কট করার কারণে নির্বাচন হয়নি। এবারও খালেদা জিয়াকে ছাড়া জনগণ কোনো নির্বাচন হতে দেবে না।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সাত দফার আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে, প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনারা বাধা দিয়েছেন। কিন্তু রাখতে পারেন না। জনগণের জোয়ার বাধা দিয়ে রাখা যায় না। প্রশাসনকে বলতে চাই, আওয়ামী লীগের সময় শেষ। জনগণের টাকায় আপনাদের বেতন হয়। আপনারা জনগণের পাশে দাড়ান। যদি না দাড়ান তাহলে জনগণ একদিন আপনাদের কাছে তার কৈফিয়ত দাবি করবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার ক্ষমতা ছাড়তে চায় না, তাই সংলাপ সফল হয়নি। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিলেন বলে তা গ্রহণযোগ্য হয়নি, এবারও তাঁকে ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বেগম জিয়াকে ছাড়া দেশে কোনও নির্বাচন করতে দেয়া হবেনা। সাত দফা দাবী মেনে না নেয়া পর্যন্ত কেউ নির্বাচনে যাওয়ার চিন্তা করবেন না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিভিন্ন চিন্তা ধারার মানুষ কেন এক মঞ্চে। দেশের ঘটনা কি, আজকে গণতন্ত্র নিখোঁজ। আপনারা কি বিশ্বাস করেন শেখ হাসিনার নেতৃত্ব কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে? আজকে আপোষহীন নেত্রী কারাগারে। তাকে কারাগারে রেখে আপনারা নির্বাচনে যাবেন? ঐক্যফ্রন্টের সাত দফায় প্রধানমন্ত্রী বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। সাত দফা না মানলে আপনারা নির্বাচনে যাবেন? নুরুল হুদার অধীনে নির্বাচন, শেখ হাসিনাকে রেখে নির্বাচন, সেই নির্বাচনে আপনারা ভোট দিতে পারবেন? শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে গেলে শেখ হাসিনা আজীবন প্রধানমন্ত্রী আর খালেদা জিয়া আজীবন জেল খানায়। তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারবে না।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণফোরামের সাধারন সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু বলেন, ‘দেশকে একটি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে না চাইলে সাত দফা মেনে নিন।’ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে দেশকে সংঘাতের হাত থেকে বাচাঁনোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে অলি আহমদ
২০ দলীয় জোটভুক্ত লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় অংশ নিয়েছেন। এই প্রথম তিনি ঐক্যফ্রন্টের কোনো কার্যক্রমে নিজে যোগ দিলেন। এই সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে সমাবেশে অলি আহমদ বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে রাজপথে আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

এর আগে সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জনসভা করে। এর কোনোটিতেই ালি আহমদ নিজে উপস্থিত ছিলেন না। সিলেটে তাঁর দলের পক্ষ থেকে ঐক্যফ্রন্টের প্রতি সমর্থন জানানো হয়। এ ছাড়া ঢাকার জনসভায়ও তাঁর দলের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ মুজিব আর জিয়াউর রহমানের দ্বন্দ্ব ঘুচিয়ে দেব: কাদের সিদ্দিকী
‘আমি যতোদিন বেঁচে থাকবো বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে ধরে বেঁচে থাকবো। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর জিয়াউর রহমানের এই যে দ্বন্দ্ব, এই দ্বন্দ্ব করে যারা দেশকে লুটে পুটে খাচ্ছে, আল্লাহ যাদি আমাকে সময় দেয় তাহলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আর জিয়াউর রহমানের দ্বন্দ্ব আমি মিটিয়ে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।’ সমাবেশে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ২০১৫ সালে লাগাতার হরতাল-অবরোধ দিয়েছিলেন। আমি উনাকে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাখান করতে অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু তিনি হরতাল প্রত্যাখান করতে পারেন নাই। জনগণই অবরোধ ভেঙ্গেছে।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, এর আগে শেখ হাসিনাকে বলেছিলাম আলোচনায় বসুন, বসেননি। এবার আলোচনায় বসেছেন। সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, হাসিনা যেদিন আলোচনায় বসেছেন সেদিনই আপনাদের বিজয় হয়েছে। আপনারা কি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় চান। বাংলাদেশের রাজনীতি মানেই খালেদা জিয়া, তাকে বন্দি রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বিএনপি রাজাকারের গাড়িতে পতাকা দেয়নি। শেখ হাসিনা রাজাকারের গাড়িতে প্রথম পতাকা দিয়েছে।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আপনাদের দুঃসময়ে এই সমাবেশে যতো মেয়ে এসেছে, এর অর্ধেকটি মেয়ে আমার দলে থাকলে আমি শেখ হাসিনাকে সরকার থেকে তিন দিনের মধ্যে ফেলে দিতে পারি। তিনি বলেন, টাঙ্গাইল থেকে সড়কপথে এসেছি, রাস্তায় রাস্তায় বাধা এসেছে। আমাকে ফেরাতে পারেনি। এই মাঠের মানুষদেরও পারেনি। হাসিনা কথা দিয়েছিলেন জনসভায় বাধা দেবেন না। কিন্তু আমার গাড়ি পাঁচবার ধরেছে। তারপর আমাকে ভুল রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছে। আমি সমাবেশের রাস্তা খুঁজে বের করেছি।

 

পালানোর পথ খুঁজছে সরকার : ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
সরকার পালাবার পথ খুঁজছে বলে মন্তব্য করে সমাবেশে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এই সরকারের ভিত হলো পুলিশ, ঘুষ, অনাচার ও দুর্নীতি, গায়েবী মামলা আর গ্রেপ্তার। কিন্তু তাদের ভিত নড়ে গেছে। তারা এখন পালানোর পথ খুঁজছে।’

সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আজকে বাস বন্ধ, যোগাযোগ বন্ধ, তারপরও আপনারা হেঁটে এসেছেন। আমরা আআেপনারা আন্দোলনে আছেন, আপনারা মাঠে থাকেন। আপনাদের বিজয় সুনিশ্চিত।’ তিনি বলেন, এবার আপনারা জয়ী হবেন, জয়ী হলে কি হবে? কৃষক শ্রমিকদের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। কৃষকের পণ্যের মূল্য নেই, শ্রমিকের শ্রমের মূল্য নেই। এসব প্রতিষ্ঠিত হবে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এখানে আজ যারা এসেছেন সবাইকে কি গ্রেপ্তার করা সম্ভব? সম্ভব নয়। তাহলে আপনারা মাঠে থাকেন। আপনাদের বিজয় নিশ্চিত। সরকার যত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করুক না কেন, ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের পরাজিত করতে হবে। জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত।’

৭ দফা মানা না পর্যন্ত নির্বাচন হবে না : মান্না
সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে একতরফা নির্বাচনী বৈতরণী পার করা সম্ভব নয়। ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বানচাল করতে চায় না। ৭ দফা দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত দেশে কোন নির্বাচন হবে না। তফশিল বদলান, আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি সে জন্য ফাঁদ পাতছেন। তা হতে দেয়া হবে না।

রাজশাহীর জনসভায় বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজনকে আসতে বাধা দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘পুলিশ গাড়ি আটকে দিচ্ছে। নাটোর, বগুড়া, রংপুরের গাড়ি আসতে দেওয়া হয়নি। প্রতিহিংসা বন্ধ করে সুষ্ঠু নির্বাচন দিন। ঐক্যফ্রন্ট যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে সরকার সে ফাঁদ পেতেছেন, তা হবে না।’

এর আগে গত ২৪ অক্টোবর ৭ দফা দাবি ও ১১ দফা লক্ষ্য সামনে রেখে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে সিলেটের রেজিস্টারি মাঠে সমাবেশ করা হয়। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. কামাল হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

২০১৮ সালের মাঝামাঝি থেকে এ ধরনের একটি ঐক্য গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বৈঠকের পর বৈঠক, নানা হিসাব-নিকাশের পর ঐক্য প্রক্রিয়ায় আসা দলগুলো অভিন্ন দাবি ও লক্ষ্যে এক হয়। এসব দাবি দাওয়া নিয়ে গত ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সংলাপে ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দেন।

বাংলার কথা/নভেম্বর ০৮, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*