Home » উত্তরের খবর » ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি রক্ষায় ৭ দাবি
ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি রক্ষায় ৭ দাবি

ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি রক্ষায় ৭ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক ০
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদীঘি রক্ষায় সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে। আজ সোমবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর হোটেল ওয়ারিসনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের রাজনৈতিক ফেলোরা এই দাবি জানান। এর আগে একই দাবিতে গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজশাহী সিটি মেয়রের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ১১তম ব্যাচ ফেলো ও রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম। পরিচালনা করেন ১১তম ব্যাচের ফেলো ও মহানগর ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ মোর্শেদ।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম বাবু, রাজশাহী সাহেব বাজার ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আলহাজ হারুনুর রশিদ, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি রিজিওনাল কোঅর্ডিনেটর মাসুদ আহমেদ, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের রাজনৈতিক ফেলো নাজমুল হক ডিকেন, রোকশানা চপলা, কৃষ্ণা দেবী, গুলশান আরা মমতা ও তৌহিদ দুর্লভ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এক সময় সোনাদীঘির পানি ছিল সুপেয়। বর্তমানে বাস্তবতা তার উল্টো। দখল ও দূষণের কারণে বর্তমানে সোনাদীঘি মরতে বসেছে। সোনাদীঘির আশেপাশে সিটি করপোরেশনের ৯, ১১ ও ১২নং ওয়ার্ডের প্রায় দুই হাজার অধিবাসীর বাস। দৈনন্দিন ও পেশাগত প্রয়োজনে সোনাদীঘি এলাকায় প্রায় আট হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু নিয়মিত বর্জ্য নিঃসরণ, পাড় সংস্কারের অভাব, সচেতনতার অভাবে সোনাদীঘি হারিয়েছে তার পুরাতন জৌলুশ। পানি নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আশেপাশের বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে সোনাদীঘির পানি নিয়মিত দূষণের শিকার হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, সোনাদীঘির বর্তমান দূরবস্থা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যবসা, যাতায়াত, প্রাকৃতিক, শিক্ষা ও সামাজিক পরিবেশকে প্রভাবিত করছে এবং এলাকাবাসী পানিদূষণজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে সোনাদীঘির দূষিত পানি মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, যার কারণে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া জাতীয় মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সোনাদীঘির চারদিকের পাড় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মাঝারি বর্ষণে দীঘির দূষিত পানি, স্তুপকৃত বর্জ্যমিশ্রিত পানির সাথে লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

সংবাদসম্মেলন থেকে সোনাদীঘি রক্ষায় সাত দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে- দীঘির পাড় সংস্কার করতে হবে, দীঘির পানি পরিষ্কার করতে হবে, দীঘির বর্জ্য অপসারণ করতে হবে, দীঘির পাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ করতে হবে, দীঘি সংলগ্ন ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে, মাদকসেবীদের আড্ডা বন্ধ করতে হবে এবং দ্রুত সিটি সেন্টার প্রকল্পের সাথে সোনাদীঘি উন্নয়ন সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে শাহ মখদুম কলেজের প্রভাষক মোঃ আসাদুজ্জাম জুয়েল, তাজউদ্দীন সজীব, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য ইলিয়াস বিন কাশেম, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী জ্যাকী, নাহিন আহমেদ, মহানগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক কবির তুষার, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জিয়াউর রহমান, রবিউদ্দিন শাহিন, মহানগর ছাত্রদল নেতা নাজমুস শাহান, লুকেন মাহমুদ, জাকিরুল ইসলাম সজীব, তন্ময়, মহানগর যুবদল নেতা মোঃ বঙ্গ, বকুল, আরিফ, জেমি, রাজশাহী কলেজের ছাত্রদল নেতা রিফাত অন্তর, সাফায়াত মান্নাত, আবির হোসেন, রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ফজলে রাব্বি, সিটি কলেজ ছাত্রদল নেতা লিমন, বোয়ালিয়া থানা ছাত্রদলের নেতা ইমন, রিয়াদ সহ রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নেতৃবৃন্দ।

বাংলার কথা/পিআর/অক্টোবর ০৮, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*