Home » বিনোদন » দর্শকদের অভিব্যক্তিই আমার সর্বোচ্চ পুরস্কার : পলাশ লোহ
দর্শকদের অভিব্যক্তিই আমার সর্বোচ্চ পুরস্কার : পলাশ লোহ

দর্শকদের অভিব্যক্তিই আমার সর্বোচ্চ পুরস্কার : পলাশ লোহ

পলাশ লোহ। দেশের মিডিয়া জগতের উঠতি অভিনেতা। তার অভিনিত বেশ কছিু নাটাক ও ধারাবাহিক প্রচার হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশনে। ১২ বছর থেকে অভিনয় করছেন মঞ্চে। এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নাটক, ধারাবাহিকের অভিনয় করে। অভিনয় করে দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন অনেক। বাংলার কথার পাঠকদের জন্য তার মুখোমুখি হয়েছেন মারুফ সরকার।

বাংলার কথা: কবে থেকে মিডিয়ায় কাজ করছেন? প্রথম কাজ কোনটা?
পলাশ লোহ: আমার প্রথম কাজ ২০১০ সালে ১৬ পর্বের মুক্তিযুদ্ধের একটা ধারাবাহিক নাটকে। নাম ছিল ‘মুক্তিযুদ্ধ একাত্তর’। পরিচালক ছিলেন পারভেজ আমিন। দেশ টিভিতে প্রচারিত হয়েছিল এই ধারাবাহিক। আমি সেটাতে মুক্তিযোদ্ধার চরিত্র করেছিলাম।

বাংলার কথা: কি কি কাজ করেছেন?
পলাশ লোহ: ২০১০ সালের পর পড়াশোনার চাপে তিন চার বছর তেমন কাজ করা হয়নি। ২০১৪ থেকে আবার কাজ শুরু করি। এরই মধ্যে বেশ কিছু কাজ করে ফেলেছি।
শ্রাবণী ফেরদৌস ও শুভ্র খান পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক  ‘অনাকাঙ্খিত সত্য’ আরটিভিতে, সাইফুল ইসলাম মান্নু পরিচালিত টেলিফিল্ম ‘তোমায় দেখবো বলে’ চ্যানেল আইতে, সাদাত রাসেল পরিচালিত ‘ওল্ড টাউন লেন’ দেশ টিভিতে, আতিকুর রহমান বেলাল পরিচালিত ভিএফএক্স নির্ভর ধারাবাহিক ‘ডালিমকুমার’ এনটিভিতে, আতিকুর রহমান বেলাল পরিচালিত সাত পর্বের ধারাবাহিক ‘যুবরাজ’ এনটিভিতে, এটিএম মাকসুদুল হক ইমু পরিচালিত ‘জামাই পরীক্ষা’ আরটিভিতে প্রচার হয়েছে।

এছাড়া জনপ্রিয় নির্মাতা সোহেল আরমান পরিচালিত ১০৪ পর্বের ধারাবাহিক ‘জলরং’ এ কাজ করেছি। নাটকটি প্রচার হয়েছে এনটিভিতে। শাহজাদা মামুনের পরিচালনায় টেলিফিল্ম ‘গোলাপী ঘুড়ি’ প্রচার হয়েছে চ্যানেল আইতে। খান সোহেলের পরিচালনায় নাটক ‘লুকোচুরি’ প্রচার হয়েছে বিজয় টিভিতে।

 

বাংলার কথা: এখন কি কি কাজ করছেন?
পলাশ লোহ: আরেকটি ভিএফএক্স নির্ভর  ১০০০ পর্বের সিরিয়ালে এখন কাজ করছি, নাম ‘মায়া মসনদ’। পরিচালনায় এস এম সালাউদ্দিন। খুব তাড়াতাড়ি তা এনটিভিতে আসছে। আতিক জামানের পরিচালনায় সিরিয়াল ‘ইচ্ছেডানা’ এর স্যুটিং করছি।

বাংলার কথা: বড় পর্দার কোন খবর ?
পলাশ লোহ: সম্প্রতি কাজ করছি মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে নির্মাণাধিন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দাহকাল’ এ। পরিচালনা করছেন  ধ্রুব হাসান। আরো দু’টি সিনেমায় কাজের কথা চলছে।

আমি আসলে হিরো হতে চাই না। হিরো হওয়ার জন্য যে সকল ক্রাইটেরিয়া থাকা দরকার, তার সবগুলো আমার মধ্যে নেই। আমি চাই ক্যারেক্টার আর্টিস্ট হতে, যেন আমার বারো বছরের থিয়েটারের অভিনয় দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সুঅভিনেতা হতে পারি।

বাংলার কথা: আপনার পড়াশোনার খবর কি?
পলাশ লোহ: শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি থেকে চারুকলার উপর মাস্টার্স শেষ করেছি ২০১৫ সালে।

বাংলার কথা: গ্রামের বাড়ি ?
পলাশ লোহ: ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে আমার গ্রামের বাড়ি। সেখানেই জন্ম। ইন্টারমিডিয়েট পড়া শেষ করে ঢাকা চলে আসি ২০০৫ সালে।

 

বাংলার কথা: অভিনয়ের পাশাপাশি কি করছেন?
পলাশ লোহ:  প্রফেশনালী গানও করছি। আমি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে তালিকাভুক্ত কণ্ঠশিল্পী। বেসরকারি চ্যানেলগুলোতেও গান করছি। আর স্টেজ প্রোগ্রাম তো আছেই। আমার দশটা মিক্সড অ্যালবাম রয়েছে।

গুণী গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালকদের সাথে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। বর্তমানে গুণী লেখক শেখ নজরুলের রচনায় বেশ কয়েকটা অ্যালবাম এর কাজ করছি। সুর করেছেন শোয়েব শিবলী, কম্পোজিশন করছেন বিনোদ রায়।

বাংলার কথা: অভিনয় নিয়ে আপনার ভাবনা কি?
পলাশ লোহ: মঞ্চে কাজ করছি ১২ বছর। আমার দল দ্যাশবাঙলা থিয়েটার। দেশের বিভিন্ন নেতিবাচক, ইতিবাচক, সংস্কৃতি, সংস্কার, মুক্তিযুদ্ধ ইত্যাদি বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে তৈরী নাটকে যেভাবে অভিনয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করি, ঠিক তেমন বিষয়গুলো নিয়ে যদি সিনেমা তৈরি হয় তবে আমার আগ্রহ বেশি থাকবে। পুরোদমে বাণিজ্যিক ছবিতে আমার আগ্রহ নেই।

বাংলার কথা: প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ ও পারিশ্রমিক পান কিনা?
পলাশ লোহ: প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজের কথা বলতে গেলে বলবো, আমি কাজের পরিমাণের চেয়ে কোয়ালিটিটা বাছি। কাজের জন্য তো ডাক পাই-ই, কিন্তু কোনটা করবো কোনটা করবো না, সেটা ভাবি আগে। সে কারণে আমার বেশিরভাগ কাজগুলোই প্রশংসিত হয়েছে।

বাংলার কথা: কোনো ক্ষোভ বা কষ্ট?
পলাশ লোহ: ক্ষোভ তো আছেই। অভিনয় না জেনেই অনেকেই অভিনেতা-অভিনেত্রী বনে যাচ্ছেন। ন্যাকামি-ছ্যাবলামিতে ভরপুর নাটকের ট্রেন্ড তৈরি হচ্ছে। এতে করে উচ্চারণ, ভাষা ও ভালো নাটকের জায়গা নষ্ট হচ্ছে।

বাংলার কথা: এ থেকে পরিত্রাণের উপায়?
পলাশ লোহ:  সেজন্য চ্যানেল ও বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারাই নির্বাচন করে দেন যে, অভিনয় শিল্পী কারা হবে, আর ডিরেক্টর কে হবে। সেই নির্বাচনটা যদি উপযুক্ত ও দক্ষ শিল্পীদের নিয়ে হয়, তাহলে ভালো নাটক নির্মাণ হবে।

 


বাংলার কথা: অভিনয় জীবনে পুরস্কার আছে কোন?
পলাশ লোহ: হাহাহা। টিভি নাটকে নাই, তবে মঞ্চে আছে। আমার অভিনয়ে দর্শকদের কাঁদাতে পেরেছিলাম, শো শেষে তারা তাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছে। এটাই আমার সর্বোচ্চ পুরস্কার ।

বাংলার কথা:  আপনার প্রিয় অভিনয় শিল্পী?
পলাশ লোহ: দেশে বিদেশে অনেকেই আছেন। ফজলুর রহমান বাবু, মাহফুজ আহমেদ, জয়া আহসান, ভিক্টর ব্যানার্জি, নানা পাটেকর, টম হ্যাঙ্কস।

বাংলার কথা:  সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
পলাশ লোহ: ধন্যবাদ আপনাকেও। ধন্যবাদ বাংলার কথার পাঠকদের।

বাংলার কথা/মারুফ সরকার/সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮। মুঠোফোন ০১৭৪৩-৩৫৯৭৪১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*