Home » উত্তরের খবর » লোডশেডিং দূর করতে রাণীনগরে নির্মিত হচ্ছে পল্লী বিদ্যুতের সাব-ষ্টেশন
লোডশেডিং দূর করতে রাণীনগরে নির্মিত হচ্ছে পল্লী বিদ্যুতের সাব-ষ্টেশন

লোডশেডিং দূর করতে রাণীনগরে নির্মিত হচ্ছে পল্লী বিদ্যুতের সাব-ষ্টেশন

সোহেল রানা জয়, রানীনগর (নওগাঁ) ০

নওগাঁর রাণীনগরের আবাদপুকুর এলাকায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পল্লী বিদ্যুতের সাব-ষ্টেশনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে । এ মাসে কাজ শেষ করে আগামী মাসেই ষ্টেশনটি চালু করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ।

 

ষ্টেশনটি চালু হলে একদিকে যেমন লো-ভোল্টেজের হাত থেকে রক্ষা পাবে, তেমনি লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে রাণীনগর উপজেলার অর্ধ লক্ষাধিক গ্রাহকের।

 

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বর্তমানে পল্লী বিদ্যুতের ৫০ হাজার ৩০০ গ্রাহক রয়েছে। এতোগুলো গ্রাহকের জন্য রাণীনগর উপজেলার চকমুনু সাব-ষ্টেশন থেকে পুরো রাণীনগর উপজেলা বিদ্যুৎ সরবরাহ কর হয়। বৃহৎ উপজেলার কোথাও ঝড়-বৃষ্টির কারনে গাছের ডাল ভেঙ্গে অথবা কোন সমস্যা দেখা দিলে ষ্টেশনটি বন্ধ রেখে কাজ করতে হয়। তখন পুরো উপজেলাবাসীকে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়। ফলে নানা রকম কাজকর্ম নিয়ে ভোগান্তিতে পরতে হয় গ্রাহকদের।

 

এছাড়া দূর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে অধিকাংশ সময় লো- ভোল্টেজের সমস্যাসহ অনাকাংখিত লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হয় গ্রাহকদের। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুমে জমিতে পানি সেচসহ নানারকম ভোগান্তি পোহাতে হয় বিদ্যুৎ চালিত গভীর ও অগভীর নলকূপ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ।

 

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করায় শুধু মাত্র একটি সাব-ষ্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে গ্রাহক সেবার মান অনেকটাই ভেঙ্গে পরে। গ্রাহকদের দোরগোরায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে এবং সেবার মান উন্নয়নে স্থানীয় সাংসদ ইসরাফিল আলমের  একান্ত প্রচেষ্টায় ১০ মেগাওয়াট ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন আরো একটি সাব-ষ্টেশন কাজের জন্য প্রকল্প হাতে নেয় কর্তৃপক্ষ।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আবাদপুকুর এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের একটি সাব-ষ্টেশন নির্মান করার জন্য জমি ক্রয় করে গত জানুয়ারি মাসে কাজ শুরু হয়। রাজশাহী ডিভিশনাল প্রজেক্ট -২ (আর আর ডি পি-২) এর আওতায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি অর্থায়নে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে নির্মাণ কাজ বেশ এগিয়েছে। তবে আগামী মাসে ষ্টেশনটি চালু করার লক্ষে দ্রুত গতিতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

ষ্টেশনটি চালু হলে রাণীনগর চকমুনু ষ্টেশন থেকে চারটি এবং আবাদপুকুর ষ্টেশন থেকে কালীগ্রাম, পারইল, একডালা ও বড়গাছা ইউনিয়নের জন্য চারটি ফিডারে ভাগ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এতে একদিকে যেমন লো-ভোল্টেজের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, অন্যদিকে মেইন লাইনে লোডশেডিং ছাড়া কোন লোডশেডিং থাকবে না। ফলে সব সময় নিরবিচ্ছিন্ন কাংখিত মানের ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাবেন গ্রাহকরা। এতে করে উপজেলার অর্ধলক্ষাধকি গ্রাহক ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।

 

এ ব্যাপারে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর রাণীনগর সাব জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আসাদুজ্জামান জানান, স্থানীয় এমপি ইসরাফিল আলমেরএকান্ত প্রচেষ্টায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আবাদপুকুর এলাকায় ১০ মেগাওয়াট ধারন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সাব-ষ্টেশন নির্মাণ করা হচ্ছে। এ মাসেই কাজ শেষ করে আগামী মাসেই ষ্টেশনটি চালু করার লক্ষে খুব জোরে-সোরেই কাজ করা হচ্ছে। ষ্টেশনটি চালু হলে উপজেলার অর্ধ লক্ষাধিক সু্বিধাভোগী গ্রাহক নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাবেন।

 

বাংলার কথা/সোহেল রানা জয়/সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*