Home » অপরাধ ও আইন » ফুলবাড়ীতে গাছ তলায় সন্তান প্রসব, তদন্তে কমিটি
ফুলবাড়ীতে গাছ তলায় সন্তান প্রসব, তদন্তে কমিটি

ফুলবাড়ীতে গাছ তলায় সন্তান প্রসব, তদন্তে কমিটি

খন্দকার ফেরদৌস হাসান,  ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) ০

দিনাজপুরে ফুলবাড়ীতে সরকারি হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়ার পর গাছ তলায় সন্তান প্রসব ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।

 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ ১৩ আগস্ট সোমবার সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আর ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর দোষী নার্সদের শাস্তির দাবিতে ঝাড়ু নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় নারীরা।

 

পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বাঁশপুকুর গ্রামের আবু তাহেরের স্ত্রীর রিনা বেগমের প্রসব ব্যাথা শুরু হলে রবিবার (১২ আগস্ট) ভোর সাড়ে পাঁচটায় ফুলবাড়ী হাসপাতালে তাকে নিয়ে আসা হয়। পরিবারটির অভিযোগ, রিনাকে ভর্তি না করে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন কর্মরত নার্স রোজিনা আক্তার ও আফরোজা খাতুন। সেই সঙ্গে তারা প্রসূতিকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলা থেকে নামিয়ে নেন।

 

এ সময় রিনার প্রসব বেদনা আরো তীব্র হলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের এক দোকানদারের মা এগিয়ে আসেন। তার সহযোগিতায় একটি কামরাঙ্গা গাছের নিচে ঘাসের ওপর জনসম্মুখে কন্যা শিশুর জন্ম দেন রিনা।

 

ঘটনাটি জানাহানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। আর জানতে পেরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এনামুল হককে প্রধান করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সঞ্জয় কুমার গুপ্ত ও উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেনকে সদস্য করে একটি কমিটি করে দেন জেলা প্রশাসক আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর।

 

সিভিল সার্জন আবদুল কুদ্দুছও গঠন করেন আরেকটি তদন্ত কমিটি। আবাসিক মেডিকেল অফিসার সঞ্জয় কুমার গুপ্তর নেতৃত্বে কমিটিতে দুই জন চিকিৎসক রইচ উদ্দিন ও মুহর্তেমা ফাতেমাকে রাখা হয়। তাদেরকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত নার্সদের তিনটি অপরাধ চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা প্রসূতিকে সর্তকতার সঙ্গে সেবা দেননি, রোগীর অবস্থা কী সে বিষয়ে কোনো চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করেনি এবং কারও অনুমতি ছাড়াই বেসরকারি হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু চিকিৎসক ছাড়া তারা অন্য জায়গায় রোগীকে রেফার্ড করতে পারেন না।’

 

‘ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে সিভিল সার্জনের সাথে পরামর্শ করা হয়েছে, তার তার পরামর্শে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট আসলেই অভিযুক্ত নার্সদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সালাম চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে, জেলা প্রশাসকের পরামর্শে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন আসলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

বাংলার কথা/আগস্ট ১৩, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*