Home » অপরাধ ও আইন » স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসির আদেশ
স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসির আদেশ

স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ ৩ জনের ফাঁসির আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ০
পরকীয়া প্রেমের জেরে পাবনায় স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীসহ তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন রাজশাহীর আদালত। মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। আজ ১৬ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরীন কবিতা আখতার এ রায় ঘোষণা করেন।

দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- পাবনা সদর থানার গোপালপুর এলাকার গোলাম মোহাম্মদের মেয়ে কুলসুম নাহার বিউটি (৪৬), জেলার আতাইকুলা উপজেলার রাণীনগর গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে রুহুল আমিন (৪৭) ও একই গ্রামের মৃত ইয়াসিন মোল্লার ছেলে সোলেমান আলী (৪৫)।

কুলসুম নাহারের স্বামী মোশাররফ হোসেন ওরফে খোকন মৃধাকে (৫০) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তাদের দন্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় এই দন্ড দেওয়া হয়েছে। নিহত মোশাররফ পাবনা সদর থানার টেকনিক্যাল মোড়ের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। মোশাররফ হোসেনলালনে ভক্ত ছিলেন।

রায় ঘোষণার সময় বিউটি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি দুই আসামি ঘটনার পর গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন। তিন আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। রায় ঘোষণার পর দন্ডপ্রাপ্ত কুলসুম নাহারকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু জানান, টাকার ওপরে মোবাইল নম্বর পেয়ে এক ছেলে ও দুই মেয়ের মা কুলসুম নাহারের সঙ্গে কথা শুরু করেন রুহুল আমিন। পরে তাদের মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এক বছর ধরে চলা এ সম্পর্কের জেরে তারা অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এসময় তারা মোশাররফ হোসেনকে ‘পথের কাটা’ মনে করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১১ সালের ৩০ জুন রাতে কুলসুম নাহারের পরকীয়া প্রেমিক রুহুল আমিন তার বন্ধু সোলেমান আলীকে নিয়ে পাবনা শহরের কালাচাঁদপাড়া মহল্লায় মোশাররফের ভাড়া বাসায় যান। এরপর তারা মোশাররফের ঘরে লুকিয়ে থাকেন। মোশাররফ ঘরে ফিরে খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে তিনজন মিলে মোশারফকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

এরপর গুম করতে মরদেহ একটি বস্তার ভেতর ঢোকান তারা। এরই মধ্যে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে যান। তখন রুহুল আমিন ও সোলেমান আলী পালিয়ে যান। ওই রাতেই পাবনা সদর থানা পুলিশ গিয়ে মোশারফের বাড়ি থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় তার স্ত্রী কুলসুম নাহারকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন থানায় মামলা হয়।

পিপি অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু জানান, চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে মোশাররফ হত্যা মামলাটি পাবনা থেকে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়। এ মামলার বিচারকাজ চলাকালে আদালতে ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দন্ডপ্রাপ্ত আসামি কুলসুম নাহার একমাসের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করতে পারবেন। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন রাজশাহী বারের অ্যাডভোকেট মাহমুদুর রহমান রুমন।

বাংলার কথা/জানুয়ারি ১৬, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*