Today September 21, 2017, 9:13 am |
Home » উত্তরের সংস্কৃতি » কবি যুথিকা দাসের একগুচ্ছ কবিতা

কবি যুথিকা দাসের একগুচ্ছ কবিতা

স্বপ্ন বিক্রি!

কৌস্তব লাল কেমন আছো?
আজ অনেকদিন পর, তোমায় দেখে হাতে খড়ি হল, কেনো জানি, খুব সুখে একটা স্বপ্ন কিনবে!
পথটা অগোছালো মনে হয়, রমজান আলি!
সেই যে গেল বছর খরায় সব আকাল পড়েছিল,
আর এর আগের বছর বানের তোড়ে ভেসে গেল।
এর আগের বছর, দাবদাহে মাঠ গেল পুড়ে,
একটাও দানা উঠেনি, হালের গরু মরেছে মড়কে।
এর আগের বছর মা মরেছিল, সন্ত্রাসীর আক্রোশে,
মেয়েটাও সাঁতরে পার হতে গিয়ে ডুবেছিল জলে,
বৌটাও লাজ ঢাকতে, বিষ পান করেছিল,
মনে পড়ে রমজান? পূর্ণিমা রাতে, কি হয়েছিল!
সরকারও করেছিল সহায়তা, ঋণের বোঝা মুকুব,
নিলামে উঠল জমি, পেটে দিলাম গামছা,
পথের ধারে থাকতে থাকতে অনাহারে
শহরে গেলাম, রিক্সা ধরলাম, নেশা ধরলাম,
উন্নতি হল দুঃখ ভুলে জুয়া খেলে মাতাল হলাম,
এখন আমি ফুটপাতে, ঘর ফেরানোর স্বপ্ন বিক্রেতা।
নেবে একটা স্বপ্ন! আর হাজার প্রতীক্ষা।
তিলে তিলে মৃত্যুর গহ্বরে ডুবে যাই
তুমিও যাও, আবারও ঘর বাঁধবে বলে,
একটা টিকেট কিনবে? মন্ত্রীর টিকেট!

***************************************

কবিতায় আমি।

চলতে চলতে হাজার কবিতার দেশে হারিয়ে গেলাম আমি একদিনে,
আমার সব ক্ষমতা, দক্ষতা, বহতা হারিয়ে গেলো কবিতায় জানি সে ক্ষণে,
তবুও আমাকে গল্প করে তুলি কবিতার জগতে যেথায় আছ তুমি,
আমায় করেছ তোমার গল্পের নায়ক কিংবা নায়িকা সুলতানা দ্বীনি।
অথচ প্রতিদিন বেঘোরে প্রাণ দেয় কত প্রলাপ সম রাগ অনুরাগ,বিরাগে,
একটাও আসেনা কাছে কবিতার মাঠে বড় ক্লান্ত হলাম দেখে কবিতারে!
নক্ষত্রের মাঝে তারা কি বিরাজে, অবোধ শিশুর মতো কাঁদো কাঁদো করে,
হারিয়ে গেলাম আজ কবিতার ভীড়ে কত কবিতা সম্ভারে
ব্যাকুল সাঁতারে।
ইচ্ছে করে আঁকড়ে ধরি বুকে, শত জনমের করি ঋণ পরিশোধ এবার,
জীবনের হিসেব নিকাশ কষে নেব এ আখেরি বারের মত আবার।
বিয়োগ হল তার দ্বিগুন করে, নিয়ম অভিধায় শর্ত, ফর্দ,
ফতোয়া অম্বরে,
আমায় নিরেট অবোধ বলে ছিনিয়ে নিলে আবেগ কুহক
আর চেষ্টারে।
তবুও মনে করি জড়িয়ে রাখি শূন্য আঁচল ভরে কবিতার
আবেগ বিহ্বলে,
তোমার গল্গের উঠা নামা কাহিনীর প্রাঞ্জল চারিত্রিক
ট্রাজিক বয়নে।
***************************************
স্বাধীনতা, তুমি কার?

হে বসুন্ধরা!
এ ভূমি কী তাদের তরে করেছিলে দান!
যারা মায়ের কোল শূন্য করে দেয়?
তাদের তরে করেছ কি এ সৃষ্টি তোমার,
মহৎ অমৃত বারি, দিবারাত্র বহে নিরবধি।
যারা শাসনের নামে করে যক্ষ শোষন?
যারা বাতাস নিষিদ্ধ করে কেড়ে নেয় প্রাণ
মায়ের এক রতি ছেলেদের!
মায়ের দুগ্ধপোষ্যদের তরে ধরেছে কৃপাণ,
ওরা তো মানুষের ভীড়ে আজও চলে, ওরা কি মহান?
বুকফুলিয়ে করে আস্ফালন, দম্ভ করে
ধর্মের নামে রটায় কুৎসা, বর্ণকে করে ম্লান।
এ ধরা কি তাদের দখলীকৃত জুত?
হে বসুন্ধরা!
কি ভেবেছে ওরা? স্বাধীনতা তুমি কার?
আমরা তো পরজীবী নই, মায়ের রক্তে সিক্ত মোরা,
চিরদিন, মেটাবো আমাদের মা মাটির ঋণ!
এখানে তোদের যেমনটি ছিল অধিকার
ঠিক ততটা আছে আমাদেরও ভাই!
সাম্যতা আমাদের দখলে, দেবোনা কখনো তোদের,
গোটা বিশ্বে মানবতা মন্ত্র বোধে আমারা দীক্ষিত,
চাইনা! অমানুষ হয়ে মুখোশের ঢঙে করা শিক্ষিত।

***************************************

সমাধির আত্ম কথা।
জানি হে জানি, হে অতীত!
প্রেম মৃত্যুর সমাধি, অনন্ত যাত্রাপথে!
সমাধি যাত্রা কোনো এক কঠিন শব্দের,
কত যুগ থেকে পথ চলতে চলতে
দেখি চারপাশে অজস্র সমাধির স্মৃতি!
নিরেট জং পড়েছে, ধরেছে প্রলেপ
আদি থেকে অন্তহীন যাত্রা পথে,
বর্ণ হীন, ধর্মহীন তবুও সমাধি কথা বলে!
বুঝাতে চায় হৃদয়ের রক্তক্ষরণ কত তেজালো
বুঝাতে চায় হৃদয়ের জমাট বাঁধা রক্তের কালচে দাগ
আজও কথা বলে।
কত কথা শুকিয়ে অন্ধ হয়ে গেছে
কত কথা হারিয়েছে তার প্রাণ,
শব্দহীন বহুস্বরের সঙ্গমে!
তবু সমাধি কথা বলে, অশ্রুপাতে হয় সাগর
নন্দিত হলো কত উদ্যান, কত নগরী নগর,
পৃথিবীর বক্ষ হতে তাজা রক্ত তার পরিমাপ
কত শব্দ আজও পথ হাঁটে।
অনন্ত গগণে ধাবিত শব্দের পরিসংখ্যানে,
সংবেদনশীল কোন পরিরম্ভে
সমাধি আজও কথা বলে পরিশীলনে!
যুগের শব্দ বিলিয়ে নীতিরা ধর্ষিত,
বিকৃত, তাজা গোলাপের ছেঁড়া পাঁজরে
উন্মুক্ত নীলাভ যোক্ত্রীর সঙ্গম পথ।

***************************************

কবিদের বুনিয়াদ।

আমি তো পড়িনি কভু কবিদের গোত্র,
কোন্ কোন্ ধর্মের ওরা পাঠ করে স্ত্রোত্র?
কবিরা চিরদিন জাতহীন, ধর্মহীন প্রাসাদ,
অনেকটা সামুদ্রিক লবণের মতো,
অন্তর রসাল, মাথার উপর তাদের উদার ছাদ।
ওদের কলমে বলে কথা নিরন্তর
চিরদিন ওরা সমুদ্রের মতোই অন্তহীন প্রান্তর!
তাই পৃথিবীর ঘোলাটে অন্ধকার যত
তাদের হাইড লেন্সে ধরা পড়ে অবিরত।
কখনও ঝাঁপিয়ে পড়া গৃধিকাদের দেখে
তাক করা দূর্বার তলোয়ার উঠে গর্জে।
প্রতিবাদ, কিংবা আপোষে নেইকো সমকক্ষ,
ওরা মানুষ নামের চাদর মোড়া একক অন্তর
ধর্মদ্রোহী, জাতদ্রোহী, দেশদ্রোহীদের করে জব্ধ।
চালাতে পারে দূর্বার হাতিয়ার, কালিতে
লেখিয়ের কলম সদা উৎসর্গ বনেদীর হাড়,
না পারে ঢলাতে ওদের রক্তাক্ত, শক্ত বুনিয়াদ।
তাই ওরা প্রতি প্রান্তরে পাথরেতে জন্মে
গুহার গহন আঁধার করে আলো,
সমতায় জোড়া তারে বাঁধন করে পোক্ত,
ওরা চিরজাগরুক চিরদিন, প্রখর, তেজালো।

বাংলার কথা/ তিতাস আলম/ ০৮ জুন,২০১৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে
সম্পাদক: শ.ম সাজু
সহকারী সম্পাদক (রংপুর বিভাগ): তিতাস আলম
২০৯ (৩য় তলা), বোয়ালিয়া থানার মোড়, কুমারপাড়া, রাজশাহী। ফোন: ০১৯২৭-৩৬২৩৭৩, ই-মেইল: banglarkotha.news@gmail.com