Today November 19, 2017, 11:48 pm |
Home » উত্তরের খবর » সিংড়ায় প্রতিমন্ত্রীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রভাবশালীদের মাছ শিকার

সিংড়ায় প্রতিমন্ত্রীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রভাবশালীদের মাছ শিকার

নাইমুর রহমান, নাটোর ০
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা চলনবিল অধ্যুষিত সিংড়া ও সদর উপজেলার খাল-বিল ও নদী-নালায়  বাঁশের বেড়া দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছে।

সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যায় সিংড়ার চলনবিল ও নলডাঙ্গার হালতিবিল এলাকা প্লাবিত হয়। কয়েক লাখ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ে। বিলের মধ্যে দিয়ে যাওয়া নদ-নদী ও খাল বিল দিয়ে সহজে পানি নেমে যাওয়ার জন্য নাটোর-৩ (সিংড়া ) আসনের সংসদ সদস্য ও  আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অবৈধভাবে বসানো সোঁতি ও বাদাই জালসহ বাঁশের বেড়া উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।

ওই নির্দেশের পর উপজেলা মৎস্য বিভাগ স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নদ-নদী ও খাল -বিল থেকে সকল প্রতিবন্ধক অপসারন সহ নিষিদ্ধ সোঁতি ও বাদাই জাল আটক অভিযান শুরু করে। অভিযানের সময় বাধা প্রদান করার অভিযোগে কলম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মইনুল হক চুনুকে আটক করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। পরে আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পান তিনি।

এদিকে মৎস্য বিভাগ প্রায় প্রতিদিন বিশাল চলনবিল ও হালতি বিলে অবৈধভাবে বসানো পানির প্রতিবন্ধক অপসারন সহ নিষিদ্ধ জাল আটক অভিযান চালালেও থেমে নেই নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার। অভিযান শেষ হতে না হতেই নদী-খাল-বিলে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা বানিয়ে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ শিকার অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

গত বৃহস্পতিবার মৎস্য বিভাগ সিংড়া উপজেলার কলম গ্রামে বারনই নদী থেকে একটি অবৈধ বাঁশের বেড়া উচ্ছেদ করে চলে আসার পর পরই পাশের বিলদহ-কৃষ্ণনগর এলাকায় বারনই ও আত্রাই নদীর সংযোগ আনন্দনগর খালে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা বানায় স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মালেকের লোকজন প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিলদহর-কৃষ্ণনগর এলাকার আনন্দনগর জোলায় (খাল) বাঁশের বেড়া দিচ্ছে। এতে করে ওই জলা বা খাল দিয়ে নৌ  চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। নৌ চালকরা প্রতিবাদ করায় তাদের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক জানান, তিনি বা তার কোন লোক ওই খালে বাশেঁর বেড়া দিচ্ছে না। কো বা কারা দিচ্ছে তা তিনি জানেন না। তবে তিনি শুনেছেন এলাকার ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী সদস্যের নির্দেশে তার সমর্থকরা নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ মারার উদ্দেশ্যে খালে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে নিচ্ছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, তারা নিষিদ্ধ সোঁতি জাল দিয়ে মাছ মারতেন। প্রতিমন্ত্রী পলকের নির্দেশ জারির পর তারা ওপথে হাঁটছেন না। হাটে হাটে পণ্য বিক্রি করছেন। ব্যবসার জন্য এখন তিনি শাহাজাদপুরে এসেছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলী জানান, তিনি আনন্দ নগর খালে বাঁশের বেড়া দেওয়ার কথা শুনেছেন। তাদের অভিযান চলমান থাকলেও লোকবল না থাকায় এবং শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় অভিযান পরিচালনা করতে পারেননি। তিনি জানান, লোকবলের অভাবে অভিযান শেষ করে আসার পর ওই এলাকায় নজরদারি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়দের ওপরই তাদের নির্ভশীল হতে হচ্ছে।

বাংলার কথা/নাইমুর রহমান/সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে
সম্পাদক: শ.ম সাজু
সহকারী সম্পাদক (রংপুর বিভাগ): তিতাস আলম
২০৯ (৩য় তলা), বোয়ালিয়া থানার মোড়, কুমারপাড়া, রাজশাহী। ফোন: ০১৯২৭-৩৬২৩৭৩, ই-মেইল: banglarkotha.news@gmail.com