Today September 20, 2017, 9:17 pm |
Home » অর্থনীতি » রাজশাহীতে বিনামূল্যে তিতির পাখি বিতরণ

রাজশাহীতে বিনামূল্যে তিতির পাখি বিতরণ

০ ড. মোঃ হেমায়েতুল ইসলাম ০
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগ বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটির সহযোগিতায় রাজশাহী মহানগরীর প্রাণিসম্পদ সমৃদ্ধ মেহেরচন্ডি গ্রামে বিনামূল্যে তিতির পাখি বিতরণ করেছে। গ্রামের ১৫ জন খামারীর প্রতিজনকে ২০টি করে এক মাস বয়সী তিতির পাখি বিতরণ করা হয়।

৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা।

অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে তিতির পাখি বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মালেশিয়ার কেবানসাং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ শাহ আলম, বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটির সভাপতি ও রাবির অধ্যাপক ড. মোঃ জালাল উদ্দিন সরদার, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সহকারি পরিচালক ডা. এমএম মোশারফ হোসেন, এসিআই এনিমেল হেলথ্ এর সেলস্ ম্যানেজার মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মাকসুদা মল্লিক প্রমি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ড. মোঃ হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রাজশাহীর সাবেক কো-অর্ডিনেটর ডা. আব্দুল মান্নান, নারী উদ্যোক্তা মোসা. সেলিনা বেগম, কেইজ বার্ডস্ এসোসিয়েশন রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশিফুর রহমান সজল, প্রমুখ। । অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন গণবিশ^বিদ্যালয়ের প্রভাষক ডা. মোঃ রিয়াজুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজী প্রজেক্ট ফেজ-২ প্রকল্পের আর্থিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ এর পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগে “Small Scale Farming of Guineafowls and Turkeys in Bangladesh- a tool for poverty reduction” শীর্ষক একটি উপ-প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। এই উপ-প্রকল্পের গবেষণা কাজের অংশে হিসেবে রাজশাহী নগরীর মেহেরচন্ডি গ্রামে ১৫ জন খামারীর প্রতিজনকে ২০টি করে এক মাস বয়সী তিতির পাখি বিতরণ করা হয়। এটি কর্মসূচির প্রথম ধাপ।  পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে পুরো গ্রামেই তিতির পাখি বিতরণ করা হবে। ইতোমধ্যেই খামারীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে যাদের ২/৩টি মুরগী বা হাঁস ছিল তা বিক্রি করে দেয়া হয়েছে।

কেন তিতির পাখি পালন?
তিতির পাখি উত্তরবঙ্গে চীনা মুরগি নামেই বেশি পরিচিত। অতীতে গ্রামীণ জনপদে দেশি মুরগির সাথে সচরাচর চোখে পড়তো এই পাখিটি। ছাই রংয়ের পালকের উপর সাদা ফোটা ফোটা রং এর পাখিটির ইংরেজী নাম গিনিফাউল (Guineafowl), যার উৎপত্তি আফ্রিকায়। পার্ল ভ্যারাটির এ পাখি পরবর্তীতে ইউরোপ হয়ে পাক-ভারত উপমহাদেশে প্রবেশ করে ব্রিটিশ উপনিবিশের মাধ্যমে।

আগে তিতির পাখি সচরাচর চোখে পড়লেও বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এসে বাংলাদেশে হঠাৎ করেই এর সংখ্যা কমতে শুরু করে। কয়েক বছর আগে এ পাখির সংখ্যা আশংকাজনকভাবে হ্রাস পায়। গ্রামাঞ্চলে কৃষকের পরিবারে এটি আর চোখেই পড়ে না। বরং শহরে খাঁচায় পোষা পাখি হিসেবে প্রতিটি পাখি এক থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

অথচ দেশি মুরগির সাথে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিতির পাখির রোগ-বালাই নেই বললেই চলে। প্রতিকূল পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে এ পাখির জুড়ি নেই। গ্রামীণ পরিবেশে ছেড়ে দিয়ে পালন করলে দেশি মুরগি যেখানে ৫০ থেকে ৬০টি ডিম দেয়, সেখানে তিতির পাখি ডিম দেয় ১২০ থেকে ১৪০টি। পাঁচ মাস বয়সে দেশি মুরগির ওজন যেখানে আটশ’ গ্রাম থেকে এক কেজি হয়, সেখানে একই বয়সী তিতির পাখির ওজন হয় দেড় কেজি থেকে এক কেজি আটশ’ গ্রাম। তিতির পাখির মাংস খেতেও দেশি মুরগির মাংসের মতো সুস্বাদু। মাংসে চর্বির পরিমাণ খুবই কম।

০ ড. মোঃ হেমায়েতুল ইসলাম, বাংলাদেশ লাই্ভস্টক সোসাইটি ও ডেপুটি চীফ ভেটেরিনারি অফিসার, ভেটেরিনানি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

বাংলার কথা/পিআর/সেপ্টেম্বর ০৬, ২০১৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে
সম্পাদক: শ.ম সাজু
সহকারী সম্পাদক (রংপুর বিভাগ): তিতাস আলম
২০৯ (৩য় তলা), বোয়ালিয়া থানার মোড়, কুমারপাড়া, রাজশাহী। ফোন: ০১৯২৭-৩৬২৩৭৩, ই-মেইল: banglarkotha.news@gmail.com