Today May 27, 2018, 6:23 pm |
Home » জাতীয় খবর » মাদক নির্মুলে পুলিশকে কঠোর হতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

মাদক নির্মুলে পুলিশকে কঠোর হতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক ০
সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশের নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সাথে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনের মতো সমাজ থেকে মাদক নির্মুলে পুলিশকে কঠোর হবার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আজ ১৬ মে বুধবার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৫তম বিসিএস ব্যাচের শিক্ষানবীস সহকারী পুলিশ সুপারদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দেয়া ভাষণে সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে বিপদাপন্ন মানুষের কাছে দাঁড়াতে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মানুষ বিপদের সময় পুলিশের কাছেই সাহায্য চায়। তাই একথা মনে রেখে, সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে আস্থা অর্জন করতে হবে, যেটা একান্তভাবে প্রয়োজন।’

দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে। সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে জনসম্পৃক্ততা সৃষ্টির মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ গঠনে আপনাদের অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনারা দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত থাকবেন।’

মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সন্ত্রাস দমনে আমরা সাফল্য অর্জন করেছি। কিন্তু মাদক একটা ব্যাধির মতো সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, একেকটি পরিবারকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মাদকের হাত থেকেও এই জাতিকে রক্ষা করতে হবে। তার জন্য বিশেষ কাজ আপনাদের করতে হবে। আমরা চাই মাদক সেবনকারী, সরবরাহকারী, মাদক ব্যবসায়ী বা উৎপাদনকারী, যারাই থাক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের একটা সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। যেমন, জঙ্গি দমনে সফল হয়েছে, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের দেশ থেকে মাদক দূর করবার ক্ষেত্রেও আপনারা সাফল্য অর্জন করবেন।

নিত্যনতুন অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের তৎপর হবার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির প্রসার ঘটছে। সাথে সাথে অপরাধীদের অপরাধ প্রবণতাটাও প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। এটা বিশ্বব্যাপীই হচ্ছে। নিত্য নতুন অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের আরো তৎপর হতে হবে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আইনশৃংখলা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থকে আমরা বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করি।

জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবীর অন্যান্যে দেশের মত বাংলদেশে জঙ্গি কর্মকান্ডের উত্থান ঘটলেও বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত সফলভাবে তা দমন করতে সক্ষম হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গি কর্মকান্ড দমনে বাংলাদেশ পুলিশের অভাবনীয় সাফল্য অর্জন শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন জঙ্গি দমনে রোল মডেল। বাংলাদেশ পুলিশের সগস্যগণ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশে শান্তি রক্ষায় তাদের মেধা ও যোগ্যতার সাক্ষর রাখছেন। এক্ষত্রে নারী পুলিশে সদস্যদের অভাবনীয় সাফল্যে রয়েছে।

 

মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে পুলিশ বাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সরকারে আমলে পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নে গৃহীত নানা পদক্ষেপের উল্লেখ করে পুলিশ সদস্যদের জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার জন্য দরকার চৌকস, পেশাদার, দক্ষ ও জনবান্ধব পুলিশ সার্ভিস। আমরা সেটা গঠন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞবদ্ধ।’

সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশকে দেওয়া নানা সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের বিভিন্ন স্তরে নারীদের নিয়োগ দিচ্ছি। ২০১৫ সাল থেকে ট্রাফিক বিভাগে নারীরাও নিয়োগ পাচ্ছে। আমরা সবার বেতন ১২৩ ভাগ বৃদ্ধি করেছি, যা পৃথিবীর কোনো দেশ, কোনো সরকার করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। এটা আমাদের কাছে গর্বের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট অত্যন্ত সফলভাবে উৎক্ষেপণ করে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে নতুন মর্যাদায় উন্নীত করেছি। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে আমরা আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। পুলিশ একাডেমিকে ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এর সাংগঠনিক কাঠামো সংস্কার, জনবল বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় যানবাহন, সরাঞ্জামাদি ও লজিস্টিক সরবরাহ আমরা অব্যাহত রেখেছি।

অনুষ্ঠানে এক বছর প্রশিক্ষণকালে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য শিক্ষানবিশ সহকারি পুলিশ সুপার মাহবুব হাসানকে বেস্ট্র প্রবেশনার,  আসমা আক্তার সোনিয়ে বেস্ট একাডেমিক পদক ও মুহাম্মদ সালমান ফার্সীকে বেস্ট হর্সম্যানশিপ পদক পদক প্রধান করেন প্রধানমন্ত্রী। কুচকাওয়াজে ১৮জন নারী অফিসারসহ ১২৩ জন শিক্ষানবিস সহকারি পুলিশ সুপার অংশগ্রহণ করেন। প্যারেড কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিস সহকারি পুলিশ সুপার মাসুদ রানা।

এর আগে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে একটি হেলিকপ্টারে করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ একাডেমিতে পৌঁছে প্যারেড মাঠে গেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান তাকে স্বাগত জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী অভিবাদন মঞ্চে গিয়ে পুলিশের সশস্ত্র সালাম গ্রহণ করেন। এরপর একটি খোলা জীপে চড়ে তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নাজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, বেগম আকতার জাহান, আয়েন উদ্দিন ও এনামুল হক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নুর-উর-রহমান, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, জেলা প্রশাসক এসএম আব্দুল কাদেরসহ পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলার কথা/মে ১৬, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে
সম্পাদক: শ.ম সাজু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোঃ হাবিবুর রহমান
২০৯ (৩য় তলা), বোয়ালিয়া থানার মোড়, কুমারপাড়া, রাজশাহী। ফোন: ০১৯২৭-৩৬২৩৭৩, ই-মেইল: banglarkotha.news@gmail.com