Today June 15, 2018, 5:40 pm |
Home » অপরাধ ও আইন » বড়াল নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন

বড়াল নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন

নাইমুর রহমান, নাটোর ০
নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা দিয়ে বয়ে চলা বড়াল নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে আবাদী জমি, চাষকৃত ফসল, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতিসহ নদী গর্ভে ভেঙ্গে বিলীন হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে।

নদীতে প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হলেও প্রশাসনের কোন নজর নেই। বসতবাড়িসহ ভিটে মাটি রক্ষায় স্থানীয়রা লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। বালু উত্তোলনকারীরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বাধা দিতে সাহস করে না কেউ। দু’একজন তাদের নিষেধ করতে গেলে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে লালপুর উপজেলার শোভ গ্রামের প্রভাবশালী আব্দুস সালামের নেতৃত্বে আব্দুর রাজ্জাক, মোজাম্মেল, আব্দুল কাদের ও তার সঙ্গীরা বড়াল নদীর চিমনাপুর এবং শোভ এলাকায় বালু উত্তোলন করছে। সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, বাধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্যে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নদী অথবা আবাসিক এলাকা থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন করা নিষিদ্ধ থাকলেও নিষেধাজ্ঞার পরোয়া করছেন না এসব প্রভাবশালী।

এভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর পাড়ের আবাদি জমি, বাগান ও বসতবাড়ি ভেঙ্গে নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন ধুপইল, শোভ ও চিমনাপুর গ্রামসহ ওই দুই উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ। ড্রেজার মেশিন স্থাপন করায় আবাদী জমির ক্ষতি রোধে স্থানীয়রা লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগও করেছেন।

এদিকে অভিযুক্তদের বাড়ি লালপুর উপজেলায় হওয়ায় বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসন কোন প্রকার আইনি ব্যবস্থা নিতে পারছে না। পরে চিমনাপুর এলাকাবাসী লালপুর উপজেলা প্রশাসনকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও নদীটির উত্তর অংশে অবস্থিত বাগতিপাড়ার চিমনাপুর ও লালপুরের শোভগ্রাম।

চিমনাপুর গ্রামের এলাহী বলেন, ‘বালু উত্তোলন শুরু করলে আমাদের জমি-জমা ও ফসলের অনেক ক্ষতি হবে ভেবে আমি বৃহস্পতিবার দুপুরে দিকে তাদেরকে বালু উত্তোলনে নিষেধ করি। এসময় আব্দুস সালাম (দেশীয় অস্ত্র) হাসুয়া নিয়ে আমাকে তাড়া করে। আর সাথে থাকা আরেকজন পিস্তল বের করে। তাদের সাথে কথা বলাই যাচ্ছে না। তারা এখন প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এলাকাবাসী বড়াল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছে।

বাগাতিপাড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার নাসরিন বানু বলেন, বালু উত্তোলন করছে এমন অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ‘নদীর যে স্থানে মেশিনটি বসানো হয়েছে তা লালপুরের অংশ হওয়ায় আমরা লালপুর উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। এছাড়া বালু উত্তোলনকারীদের বাড়ি লালপুর উপজেলায়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে তারা খুব প্রভাবশালী। লালপুর উপজেলা প্রশাসন এলাকাটি বাগাতিপাড়ার অংশ বলে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। ফলে  বিষয়টি  অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটকেও অবহিত করা হয়েছে।’

লালপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে নিষেধ করা হয়েছে। তার পরও যদি বালু উত্তোলন বন্ধ না হয় তবে পরবর্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলার কথা/নাইমুর রহমান/জানুয়ারি ২৮, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে
সম্পাদক: শ.ম সাজু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোঃ হাবিবুর রহমান
২০৯ (৩য় তলা), বোয়ালিয়া থানার মোড়, কুমারপাড়া, রাজশাহী। ফোন: ০১৯২৭-৩৬২৩৭৩, ই-মেইল: banglarkotha.news@gmail.com