Today September 21, 2017, 9:24 am |
Home » নাগরিক সংবাদিকতা » বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখি

বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখি

মোঃ হায়দার আলী ০

মানুষের মুখে মুখে এখনও উচ্চারিত হয় কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী কবিতা- “বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই”। এই কবিতার কারণে আজও সকলের কাছে পরিচিত হয়ে আছে সুনন্দা বাবুই পাখি। রাজশাহী জেলাসহ উত্তরাঞ্চলের জেলা ও উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে চতুর সেই বাবুই পাখি।

সময়ের বিবর্তনে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আজ হারিয়ে যাচ্ছে শিল্পী, সম্প্রীতি এবং সামাজিক বন্ধনের কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা। গ্রামবাংলায় এখন আর আগের মতো বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির দিকে বাবুই পাখি।

বাবুই আবহমান বাংলার শোভন পাখি। তালগাছের পাতায় দল বেধে বাসা বাঁধে তারা। তাদের বাসা সুউচ্চ তালগাছকে আরও নয়নাভিরাম করে তোলে। এমন সুন্দর চমৎকার নিপূণ কারিগরী বাসা আর কোন পাখি বুনতে পারে না। মানুষের পক্ষেও সম্ভব নয় এমন সুন্দর বাসা তৈরী করা।

বাবুই পাখির শিল্পীত বাসা নিসর্গকে মনোরম করে তোলে। যেমন দৃষ্টিনন্দন তাদের বাসা, ঠিক তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড় বৃষ্টি-বাতাসেও টিকে থাকে তাদের বাসা। খড়ের ফালি, ধানের পাতা, তালের কচিপাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতাপাতা দিয়ে উঁচু তালগাছে চমৎকার আকৃতির বাসা তৈরি করে বাবুই পাখিরা। একান্নবর্তী পরিবারের মত এক গাছে দলবদ্ধ বাসা বুনে বাস করে তারা।

বাবুই পাখি একাধারে শিল্পী, স্থপতি এবং সামাজিক বন্ধনেরও প্রতিচ্ছবি। শক্ত বুননের এ বাসা টেনেও ছেঁড়া কঠিন। রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে দিনে দিনে উজাড় হয়ে হচ্ছে তালগাছ। তার সাথে উজাড় হচ্ছে বাবুই পাখির বাসা। কয়েক বছর আগেও গ্রাম-গঞ্জের তাল, নারিকেল ও সুপারি গাছে ব্যাপকভাবে বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়ত। কিন্তু এখন আগের মতো দেখা যায় না বাবুই পাখির বাসা।

বাবুই পাখির বাসা শুধু শৈল্পিক নিদর্শনই ছিল না, মানুষের মনে চিন্তার খোরাক যোগাত। মানুষকে স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করত। বাবুই পাখির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এরা রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করার জন্য জোনাকি পোকা ধরে নিয়ে বাসায় রাখে। সকাল হলেই আবার তাদের ছেড়ে দেয়।

সাধারণত তাল, খেজুর, নারিকেল, সুপারি ও আখক্ষেতে বাসা বাঁধে বাবুই পাখি। ধান, চাল, গম ও পোকা-মাকড় এদের প্রধান খাবার। পাখি প্রেমিক গোদাগাড়ী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলার শামিম রেজা  বলেন, বর্তমানে যেমন তাল জাতীয় গাছ হারিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখি। আগের মতো তাল গাছও নেই, বাবুই পাখিও নেই।

রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী তার নির্বাচনী এলাকায় তাল গাছ রোপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। বেশ কিছু তালগাছ রোপনের ব্যবস্থাও করেছিলেন তিনি। তার এই উদ্যোগে হাজার হাজার মানুষ সাড়া দিয়েছিলেন। সেই তালগাছগুলি এখন বড় হচ্ছে। সচেতন মহল মনে করেন, বাবুই পাখির আবাস তাল গাছ। বাবুই পাখি সংরক্ষনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তালগাছের সংরক্ষণ সরকারীভাবে করা জরুরি।

০ মোঃ হায়দার আলী, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

বাংলার কথা/সেপ্টেম্বর ০৮, ২০১৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে
সম্পাদক: শ.ম সাজু
সহকারী সম্পাদক (রংপুর বিভাগ): তিতাস আলম
২০৯ (৩য় তলা), বোয়ালিয়া থানার মোড়, কুমারপাড়া, রাজশাহী। ফোন: ০১৯২৭-৩৬২৩৭৩, ই-মেইল: banglarkotha.news@gmail.com