Today November 25, 2017, 7:54 am |
Home » উত্তরের খবর » প্রতিমা তৈরির আয় দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চলে না

প্রতিমা তৈরির আয় দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চলে না

পাপন সরকার শুভ্র ০

চলতি মাসের ২৬ তারিখ হতে ষষ্টি পূজার মাধ্যমে শুরু হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। ৩০ তারিখ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব। হিন্দু সম্প্রদায়ের এই উৎসব ঘিরে এরই মধ্যে চারদিক মুখরিত হয়ে উঠছে পূজার আমেজে।

 

 

প্রতিমা তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মূর্তি শিল্পীরা। শিল্পীরা রাত-দিন প্রতিমা তৈরিতে  ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কার চেয়ে কে বেশি আকর্ষণীয় মন্ডপ তৈরি করবে, তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন অনেকে।

 

 

শিল্পীদের শৈল্পিক ছোঁয়ায় খড়, মাটি, পাট আর কাঁদায় তৈরি প্রতিমা উঠে দাঁড়াতে শুরু করেছে। শুধু বাকি পরিপাটি করে সাজানোর কাজটুকু।

 

 

রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে শিল্পীদের ব্যস্ততা দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ডার নিয়ে তারা দিন-রাত কাজ করছেন। বসে থাকার কোন সময় এখন নেই তাদের। নগরীর গণকপাড়া, আলুপট্টি, সেখেরচক, সাগরপাড়া ও বোয়ালিয়া মডেল থানার সামনে অর্ডারকারীদের পছন্দের প্রতিমা তৈরী করতে ব্যস্ত দেখা যায় তাদের।

 

 

কেউ আউর (ধানের খড়) দিয়ে মূর্তি তৈরির প্রাথমিক কাজ করছেন, কেউ মাটি দিয়ে আউরের উপর আবরণ দিচ্ছেন, কেউ আবার সেই মাটিকে সুন্দর মসৃন ও আকর্ষণীয় করার জন্য তুলির আঁচড় দিয়ে আকর্ষনীয় করে তুলছেন।

 

 

বোয়ালিয়া মডেল থানার সামনে গিয়ে দেখা যায়, ফরিদপুর থেকে আসা গণেশ কুমার পাল তার দলবল নিয়ে প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত। তার সহযোগি হিসেবে রয়েছেন রাজকুমার পাল, গৌরপাল, উজ্জল পাল, ঋষিকান্ত পাল ও শিল্পি পাল।

 

 

গণেশ কুমার পাল বলেন, তারা বংশ পরম্পরায় প্রতিমা তৈরির কাজের সাথে যুক্ত। দূর্গা পূজার সময় তাদের কদর থাকে বেশি। তাদের হাতে কাজ হচ্ছে বেশি। রাজশাহীর প্রায় প্রতিটি থানা এবং মহানগর থেকে তারা প্রতিমা তৈরির অর্ডার পেয়েছেন। মন্ডপের সংখ্যা বাড়ায় তাদের কাজও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

 

 

গণেশ বলেন, এবার ১৫টি মন্ডপের প্রতিমা তৈরির অর্ডার পেয়েছেন তিনি। একটি মন্ডপের প্রতিমা তৈরি করতে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। প্রতিমা তৈরির সব খরচ বাদ দিয়ে তাদের সারা বছর চলার মতো কিছুটা উপার্জন হয়। তবে তা দিয়ে সারা বছর থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো কষ্টকর হয়।

 

 

পূজার সময় চলে গেলে বিভিন্ন রকম খেলনা ও মাটির কাজ করেন গণেশ কুমার পাল ও তার সহযোগিরা। তখন বেশ কষ্টই হয় তাদের। তবে তারা জানান, পূজা মৌসুমে সব পুষিয়ে যায়। কিন্তু তাদের সমস্যা হচ্ছে, প্রতিমা তৈরির কারখানা ভাড়া নিয়ে। পূজার সময় মালিকরা ভাড়া দিতে চান না। এজন্য বারো মাস কারখানা ভাড়া নিয়ে থেকে ভাড়া দিতে হয়।

 

 

গণেশ বলেন, বিভিন্ন শোরুমের জন্য পাঁচ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে সারাবছর ১০হাজার টাকা ভাড়া দিতে পারেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আমাদের পক্ষেতো এ রকম করে ভাড়া নেওয়া সম্ভব না। পূজার সময় এক মৌসুমে ব্যবসা করে সারাবছর কারখানা ভাড়া নিয়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা ভাড়া চালানো আমাদের পক্ষে খুবই কষ্টসাধ্য। কয়েকবছর পর যখন কারখানা ভাড়া ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা হবে, তখন কতদূর কি হবে বলা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

 

 

আরেকজন শিল্পী গোবিন্দ মালাকার বলেন, পূজার সময় তাদের কাজ ভালো হয়। পূজার মৌসুম চলে গেলে তারা ঝাঁকা, কুলা ইত্যাদি বানানোর কাজ করেন। কিন্তু তখন সংসার খরচ চালানো এবং সারাবছর খুব সমস্যায় চলতে হয়।

 

 

 

বাংলার কথা/সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে
সম্পাদক: শ.ম সাজু
সহকারী সম্পাদক (রংপুর বিভাগ): তিতাস আলম
২০৯ (৩য় তলা), বোয়ালিয়া থানার মোড়, কুমারপাড়া, রাজশাহী। ফোন: ০১৯২৭-৩৬২৩৭৩, ই-মেইল: banglarkotha.news@gmail.com