Today May 27, 2018, 9:40 pm |
Home » অর্থনীতি » নাম না জানা আম পেকেছে বৈশাখেই

নাম না জানা আম পেকেছে বৈশাখেই

নিজস্ব প্রতিবেদক ০
‘আম পাকে বৈশাখে, কুল পাকে ফাগুনে’ সুকুমার রায় তার ‘পাকাপাকি’ কবিতায় লিখেছিলেন এ কথা। কবিতায় বৈশাখ মাসে আম পাকার কথা বলা হলেও আমের রাজধানী বিহেবে খ্যাত বৃহত্তর রাজশাহীতে এ মাসে কোন আম পাকে না। আজ সোমবার, বৈশাখ মাসের শেষ দিন। রাজশাহীর বাগানগুলোতে গাছে এখনও আম পাকেনি। সম্প্রতি রাজশাহী জেলা প্রশাসন কৃষিবিদ, আম ব্যবসায়ী ও আমচাষীদের সাথে বৈঠক করে অপুষ্ট আম যাতে কেউ বাজারজাত করতে না পারে, সেজন্য গাছ থেকে আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে। সে হিসেবে আগামি ২০ মে’র আগে গাছ থেকে আম নামানো যাবে না।

কিন্তু রাজশাহীর একটি গাছ এর ব্যতিক্রম। বৈশাখ মাসের শেষ সপ্তাহে গাছটিতে আম পেকেছে। গত শুক্রবার নতুন জাতের এই আম গাছটির সন্ধান পেয়েছে কৃষি বিভাগ। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, নামহীন এই আঁটি আমটিই প্রতি মৌসুমে সবার আগে পাকে।

রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়াপাড়ার বাসিন্দা ওয়াহেদ আলীর বাড়ির উঠোনে রয়েছে গাছটি। বয়স প্রায় ১৭ বছর। তবে পাঁচ বছর আগে থেকে গাছটি প্রতি মৌসুমে ছয় থেকে আট মণ করে আম দেয়। এবারও গাছটিতে প্রায় আট মণ আম ধরেছিল। এর মধ্যে কয়েকদিন আগে ছয় মণ আম পেড়ে বিক্রি করেছেন ওয়াহেদ। তার এই জাত সম্প্রসারণ করে আমের মৌসুম এগিয়ে আনার সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ।

গাছটির প্রথম সন্ধান পান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক। তিনি জানান, ওয়াহেদ আলীর ভায়রা ভাই তার পূর্ব পরিচিত। তার কাছেই তিনি গত শুক্রবার গাছটির কথা প্রথমে জানতে পারেন। তারপর সেদিনই তিনি রাজশাহী হর্টিকালচার সেন্টারের জ্যেষ্ঠ উদ্যানতত্ববিদ অহেদুর রহমান ও মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা উম্মে সালমাকে সঙ্গে নিয়ে ওয়াহেদ আলীর বাড়িতে গাছটি দেখতে যান।

 

মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা উম্মে সালমা জানান, গাছটির উচ্চতা প্রায় ২৫ ফুট। প্রতিটি আমের গড় ওজন ৪০০ গ্রাম। এর মধ্যে আঁটি ৫৪ গ্রাম। আর চামড়া ৪২ গ্রাম। খাওয়ার যোগ্য অংশ ৭৬ শতাংশ এবং মিষ্টতা ১৪ শতাংশ। পাকা আমের চামড়া হলুদাভ। তবে ভেতর গাঢ় হলুদ। আছে আকর্ষণীয় সুগন্ধও। অন্য জাতের আমের মতো ফাল্গুনেই মুকুল এসেছিল গাছটিতে। তবে আমের বৃদ্ধি অস্বাভাবিক দ্রুত। তাই পেকেছেও সবার আগে।

গাছের মালিক ওয়াহেদ আলী জানান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের নার্সারি থেকে ২০০১ সালে তিনি গাছটির চারা সংগ্রহ করেছিলেন। ভেবেছিলেন এটি কলম করা উন্নত জাতের আমের গাছ। রোপনের কিছু দিন পর গাছটি ভেঙে যায়। পরে আবার ডালপালা বের হয়। এরপর ২০০৭ সালে গাছটিতে প্রথমবারের মতো দুটি আম ধরে। পরের বছর ২৫টি এবং এরও পরের বছর আম ধরে ৮২টি। এখন প্রতি মৌসুমেই আম ধরে গাছটিতে। গত পাঁচ বছর ধরে আম পাওয়া যাচ্ছে ছয় থেকে আট মণ। এবারও প্রায় আট মণ আম ধরেছিল। এর মধ্যে কয়েক দিন আগে ছয় মণ আম বিক্রি করেছেন। প্রতি মণের দাম পেয়েছেন ছয় হাজার টাকা। প্রতি মৌসুমে এই একটি গাছ থেকেই প্রায় ৪০ হাজার টাকার আম বিক্রি করার কথা জানান ওয়াহেদ আলী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব ও গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হামিম রেজা বলেন, গোপালভোগ জাতের আম পাকে মে মাসের চতুর্থ সপ্তাহে। এটিই রাজশাহী অঞ্চলে সবার আগে পাকা আম। এর আগে এ অঞ্চলে আম পাকার কথা নয়। তবে যদি কোনো গাছে এর আগেই আম পাকে তবে তার বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনেক বেশি। এ ধরনের জাতের সম্প্রসারণ করা গেলে আমের মৌসুম এগিয়ে আসবে।

রাজশাহী হর্টিকালচার সেন্টারের জ্যেষ্ঠ উদ্যানতত্ববিদ অহেদুর রহমান জানান, গত শনিবার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মহসীন রাজশাহী এসেছিলেন। তারা তাকে ওয়াহেদ আলীর গাছের আম খাওয়ান। এতো আগে গাছ পাকা আম দেখে তিনি অভিভূত হন। তিনি তাদের জাতটির সম্প্রসারণের নির্দেশনা দিয়েছেন। তাই তারা কলম করে সম্প্রসারণের জন্য গাছটির ডাল সংগ্রহ করেছেন। এখন আমটির জাত সম্প্রসারণের পাশাপাশি আরও গবেষণা এবং আমটির নাম রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলার কথা/মে ১৪, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে
সম্পাদক: শ.ম সাজু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোঃ হাবিবুর রহমান
২০৯ (৩য় তলা), বোয়ালিয়া থানার মোড়, কুমারপাড়া, রাজশাহী। ফোন: ০১৯২৭-৩৬২৩৭৩, ই-মেইল: banglarkotha.news@gmail.com