Today September 21, 2017, 9:23 am |
Home » জাতীয় খবর » জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতায় বাংলাদেশ

জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতায় বাংলাদেশ

বাংলার কথা ডেস্ক ০
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরেই এ সঙ্কট সমাধানে শান্তিপূর্ণভাবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চললেও মিয়ানমারের কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত ঢাকা মানলেও ইয়াঙ্গুন মানেনি। তাই মিয়ানমারের ওপর ভরসা পায় না বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিকভাবেই এ সমস্যা সমাধানের উপায় খোঁজা হচ্ছে।

 

 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও কূটনীতিকরা বলছেন, গত কয়েকদিনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো বর্বরতায় প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে এবং বেশ কয়েকটি গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে রূপ নিয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজতে হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত, চীন ও রাশিয়ার কাছে রোহিঙ্গা সমস্যার প্রকৃত বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে যেসব রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছে, তাদের সবার বায়োমেট্রিক আইডি কার্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংগঠনের সহায়তা নিয়েই করতে হবে। তাহলে তাদের ফেরত পাঠানো সহজ হবে।

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক গতকাল জানান, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা আগে থেকেই চালিয়ে আসছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমস্যা সমাধানের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বসহ তাদের সব অধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আসিয়ান ও ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার যে সন্ত্রাস দমনের কথা বলছে, তা যৌথভাবে সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ‘বাঙালি’ এবং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে মিয়ানমারের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

গত কয়েকদিনে চারবার দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদপত্র ও উদ্বেগ জানায় বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া খুব শিগগিরই বাংলাদেশে অবস্থানরত দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, বিদেশি মিশনপ্রধান এবং কূটনীতিকদের রোহিঙ্গা সমস্যা ব্রিফ করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং বিষয়টি তার কাছে তুলে ধরেছেন। মিয়ানমারের রাখাইনে গৃহহীন ও নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাংলাদেশ অনুপ্রবেশ বন্ধে সেখানে একটি সুরক্ষাবলয় গঠনের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মোতায়েনের প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। কারণ মিয়ানমারের সেনারা সেখানে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে, তাই তাদের কাছে রোহিঙ্গারা নিরাপদ নয়।

 

 

বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাতিসংঘের মহাসচিব, মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার, শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ওআইসি রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং অনতিবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় এবং মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রশংসা করেছে। এছাড়া কয়েকটি দেশ বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। গত সপ্তাহে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের স্ত্রী দেশটির ফার্স্ট লেডি এমিনি এরদোগান নিজে এসে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে গেছেন।

 

 

সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির এ বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চীন, ভারত ও রাশিয়ায় বিশেষ দূত পাঠিয়ে তাদের বোঝানো দরকার যে এটা কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নয়। এর মূল সমস্যাটা তুলে ধরতে হবে। আর এখন সারাবিশ্বই এই সঙ্কটের কথা জানে। তাই মূল সমস্যাটা বোঝানো সহজ হবে। মিয়ানমার তাদের মতো করে প্রচারণা চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যে ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তাদের বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ) আইডি কার্ড দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। তা করতে না পারলে, তাদের ফেরত পাঠানো কঠিন হবে। কয়েকদিন পর মিয়ানমার বলবে যে, রোহিঙ্গারা সে দেশ থেকে আসেনি, তারা বাঙালি। তাই বিষয়টি দ্রুত করতে হবে।

 

 

বাংলাদেশ মানবাধিকার ও মানবিক দিক বিবেচনা করে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে মোহাম্মদ জমির বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন। তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ইরানসহ বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশকে সহযোগিতার কথা বলেছে। বাংলাদেশকে এসব সহযোগিতা কাজে লাগাতে হবে। গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে নতুন করে দেশটির সেনা অভিযানে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বাংলাদেশে প্রবেশ করতে গিয়ে নাফ নদীতে নৌকাডুবিতে শতাধিক মিয়ানমার নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে, যার ছবি প্রতিদিন গণমাধ্যম তুলে ধরছে। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে ইউরোপে যে ভয়াবহ শরণার্থী সঙ্কট দেখা দিয়েছিল, তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয় রোহিঙ্গা সঙ্কট। তখন সমুদ্রের তীরে শিশুদের লাশ ভেসে থাকতে দেখা যেত, এখন নাফ নদীতে নারী ও শিশুদের লাশ ভেসে উঠছে।

 

সূত্র: সকালের খবর/বাংলার কথা/সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে
সম্পাদক: শ.ম সাজু
সহকারী সম্পাদক (রংপুর বিভাগ): তিতাস আলম
২০৯ (৩য় তলা), বোয়ালিয়া থানার মোড়, কুমারপাড়া, রাজশাহী। ফোন: ০১৯২৭-৩৬২৩৭৩, ই-মেইল: banglarkotha.news@gmail.com