Today December 13, 2017, 2:00 am |
Home » অপরাধ ও আইন » ছবি ‘বিকৃত’ করে ফেসবুকে : স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

ছবি ‘বিকৃত’ করে ফেসবুকে : স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ০
ছবি ‘বিকৃত’ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে দুঃখে জেমি আক্তার নামে নবম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায়।

২১ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে নিজ বাড়িতে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে জেমি। সে উপজেলার দক্ষিন গড্ডিমারী এলাকার জহুরুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় পুলিশ লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি আরাফাত হোসেন আরিফ নামে এক দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে। আটক আরাফাত একই গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে জেমি আক্তারকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় স্কুল ছাত্র আরাফাত হোসেন আরিফ। মেয়েটি তার প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় জেমির প্রতিবেশী কাপড় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের ছেলে নবম শ্রেণীর ছাত্র আব্দুল্লাহ আল আরিফের সহায়তা নেয় আরাফাত। এতেও রাজি হয়নি মেয়েটি। ফলে এনিয়ে দুই আরিফ মিলে স্কুল যাওয়া আসার পথে প্রায় সময় মেয়েটিকে উত্যক্ত করতে থাকে। মেয়েটির কাছে এমন উত্যক্তের বিষয় শুনে তার পরিবারের লোকজন আরাফাত ও আরিফের বাবা-মাকে ঘটনাটি জানিয়ে দেয়। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি।

এই অবস্থায় মেয়েটি মঙ্গলবার স্কুলে গিয়ে জানতে পারে যে, আরাফাত তার নিজের ফেসবুক আইডিতে জেমি আক্তারের ছবি ‘বিকৃত’ করে আপলোড করেছে। ফলে মেয়েটি বিষন্ন মনে স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরে এসে কান্নাকাটি শুরু করে। মেয়েটির বড় ভাই রনিও ফেসবুকে ওই ছবি দেখে জেমিকে বকাবকি করে। একপর্যায়ে রাত ৮টার দিকে নিজ বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সেলিংফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে মেয়েটি। খবর পেয়ে থানা পুলিশ রাতেই লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। পাশাপাশি মেয়েটির বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে আরাফাত হোসেন আরিফকে গ্রেফতার করে আজ ২২ নভেম্বর বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

জেমির মা নুরবানু বেগম বলেন, ‘দেড় বছর থেকে ওই দুই ছেলে (আরাফাত এবং আরিফ) আমার মেয়েকে উত্যক্ত করে আসছিল। এজন্য তাদের বাবা-মাকে বহুবার বলেছি। কিন্তু আমরা গরিব মানুষ বলে তারা উল্টো আমাদেরকে গালিগালাজ করেছে। আজ তাদের জন্য আমি আমার সন্তান হারালাম।’

মেয়েটির বাবা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘কখনই ভাবিনি আমি আমার মেয়েকে এভাবে হারাবো। আমি এ ঘটনার ন্যায্য বিচার চাই।’

হাতীবান্ধা থানার ওসি শামীম হাসান সরদার বলেন, ‘মেয়েটির বাবা এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় আরাফাত হোসেন আরিফকে গ্রেফতার করে বুধবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপর আসামি আব্দুল্লাহ আল আরিফকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বাংলার কথা/ইলিয়াস বসুুনিয়া পবন/নভেম্বর ২২, ২০১৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে
সম্পাদক: শ.ম সাজু
সহকারী সম্পাদক (রংপুর বিভাগ): তিতাস আলম
২০৯ (৩য় তলা), বোয়ালিয়া থানার মোড়, কুমারপাড়া, রাজশাহী। ফোন: ০১৯২৭-৩৬২৩৭৩, ই-মেইল: banglarkotha.news@gmail.com