Today June 14, 2018, 8:37 pm |
Home » উত্তরের খবর » খেলার মাঠ নেই রাজশাহীর বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

খেলার মাঠ নেই রাজশাহীর বেশিরভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক ০
রাজশাহী মহানগরীর বেশিরভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই খেলার মাঠ। খেলার মাঠ নেই কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতেও। মাঠ না থাকায় খেলাধুলা চর্চার সুযোগ পাচ্ছে না শিশুরা। ফলে শুরু থেকেই দুর্বলভাবে বেড়ে উঠা শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়েই শিশুদের শিক্ষার ভিত গড়ে ওঠে। এই বয়সে শিশুদের ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে। হীনমন্যতা থেকে বের হয়ে সাহসী হয়ে গড়ে উঠবার শিক্ষা পায় তারা। ফলে এই বয়সে শিশুরা যা শেখে, তা সারাজীবন তাদের পথ চলতে সহায়ক হয়। প্রথম দশ বছরেই শিশুদের বিকাশ সম্পন্ন হয়ে থাকে। এজন্য শিশুদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এসব চর্চার মধ্যে দিয়ে শিশুরা যা শিখবে, তা অন্য কোন উপায়ে শেখা সম্ভব না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবা কানিজ কেয়া বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় খেলার মাঠ না থাকায় শিশুরা পড়ালেখায় আগ্রহ হারাচ্ছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সামাজিকীকরণে পিছিয়ে পড়ছে। এর ফলে বাস্তব পরিবেশে শিশুরা নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না। অসামাজিক হিসেবে গড়ে উঠছে। মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত এ সব শিশু কিশোর পরবর্তীতে নানা ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার কোন বিকল্প নেই।

 


খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দেড়শটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে কোন খেলার মাঠ নেই। নগরীর কাদিরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেলওয়ে স্টেশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গৌরহাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলে ঢোকার পর পাখির খাঁচার মতো ক্লাসরুমে অনেকটাই বন্দী হয়ে থাকে শিশুরা। বন্দী প্রায় অবস্থাতেই তাদের স্কুলে থাকতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের অনেক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল হয়ে গেছে। অনেক বিদ্যালয়ের মাঠেই গড়ে উঠেছে স্থাপনা। যেটুকু রয়েছে, তাতে খেলাধুলার কোন  পরিবেশ নেই। সূত্র মতে, রাজশাহীতে ৬টি, নওগাঁয় ৬০টি, নাটোরে ৩৫টি, বগুড়ায় ২৪টি, সিরাজগঞ্জে একটি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল হয়ে গেছে। এর মধ্যে নগরীর গৌরহাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় গড়ে উঠেছে স্টিল ওয়ার্কশপ। সারাক্ষণ উচ্চ শব্দে কাজ চলে সেখানে। রেলওয়ে স্টেশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় সারাক্ষণ বাস দাড়িয়ে থাকে। বাস-ট্রাকের উচ্চ শব্দে লেখাপড়ায় মন বসাতে পারেনা শিশুরা। এছাড়া নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালী পৌর এলাকার মাসকাটাদিঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বসানো হয়েছে সবজির হাট। শুক্র ও সোমবার নিয়ম করে স্কুল মাঠে হাট বসে। স্কুল চলাকালীন হাট বসায় বিঘ্নিত হয় শিক্ষার পরিবেশ।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় উপপরিচালক আবুল খায়ের জানান, রাজশাহী নগরীর বিদ্যালয়গুলোতে খেলার মাঠ না থাকলেও গ্রাম পর্যায়ের প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গ্রামের প্রতিটি স্কুল ৩৩ শতাংশ জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত। আর নগরীর স্কুলগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ৬ শতাংশ জমির উপর। ফলে নগরীর বিদ্যালয়গুলোতে খেলার মাঠ অবহেলিত থেকে গেছে। জেলা পর্যায়ের শহর এলাকাগুলোতেও একই অবস্থা। এর মধ্যে কোথাও কোথাও বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল হয়ে গেছে। তবে নতুন করে ভবন নির্মাণ হলে বহুতল ভবনের নিচতলায় শিশুদের জন্য খেলার জায়গা রাখার বিষয়টি ভাবনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

সংস্কৃতিকর্মী আজিরা আফসান মীম বলেন, শিশুদের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ থাকবে না, তা ভাবাই যায় না। পড়ালেখার বাইরে একটু নিঃশ্বাস নেবার মতো খোলা মাঠ শিশুরা পাবে না, তা হতেই পারে না। শিশুদের মূল বিকাশই তো হয় খেলাধুলার মাধ্যমে। পড়ালেখার বাইরে মাঠে শিশুরা দৌঁড়াবে, খেলবে। তবেই না শিশুরা ভালো থাকবে। আনন্দে থাকবে। আর আনন্দের মাধ্যমে শেখাটাই প্রকৃত শেখা।

বাংলার কথা/মার্চ ১০, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে
সম্পাদক: শ.ম সাজু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোঃ হাবিবুর রহমান
২০৯ (৩য় তলা), বোয়ালিয়া থানার মোড়, কুমারপাড়া, রাজশাহী। ফোন: ০১৯২৭-৩৬২৩৭৩, ই-মেইল: banglarkotha.news@gmail.com