Today November 25, 2017, 7:45 am |
Home » সাহিত্য » কবি হাফিজুর রহমানের একগুচ্ছ কবিতা

কবি হাফিজুর রহমানের একগুচ্ছ কবিতা

নেশায় মিশে

একবুক কালো রাত্রির অন্ধকার নিয়ে
এখনও অপেক্ষার দিন গণনা,
কখনও যদি আসে ফিরে প্রশান্তির নীড়ে
খোকায় আমার, কাটেনা দুর্ভাবনা।
পরিবেশ পরিস্থিতি খেলো গিলে
মগজখানি, বুকের মানিকটার।
নেশাগ্রস্থ চাল-চলন টলমলে
কঙ্কালসার হয়েছে দেহটার।
মা ডাকটি শুনে তার বারবার
ভিতর বুকে শুধু হাহাকার।
এ কি আমার সেই মানিক ?
জন্ম, জন্মান্তরকে করে তিরস্কার।
সঙ্গদোষ ওরে নষ্ট করে দিল
কষ্টের প্রাচীরে বন্দি পরিবার।
হেয় করে সমাজ তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যে
প্রতিরোধ করেনা, করে শিকার।
একবুক কালো রাত্রির অন্ধকার নিয়ে
এখনও অপেক্ষার দিন গণনা,
কখনও যদি আসে ফিরে প্রশান্তির নীড়ে
হতাশাগ্রস্ত মা, কাটেনা দুর্ভাবনা।

দাম্পত্যকলহ

কতরাত কেটে গেছে জেগে, এই বুঝি তুমি এলে-
কড়া নাড়ার ঠক্ ঠক্ শব্দে তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখে, দরজা খুলে দেখি
ফাঁকা উঠানে লেবুগাছের তলে, জোনাকীর আলো জ্বলে-
ঘুর্ণি-বাতাসে উদাস মনে শুধুই হাহাকার, নিরাশার গলা ধরে।
সুখ পাখিটা যায় ডেকে মধূ মাসে মকুলের ঘ্রাণে
আতা গাছের ডালে স্পর্শহীন ইশারায়, নয় নাগালে।
ব্যঙ্গ-পুরের রঙমহলে সাজিয়ে রাখা জীবন্ত পুতুল
ইচ্ছেমতো নৃত্য করে কৃত্যবাঁধনে, সাধনের অতিথি-
অর্ন্তদ্বন্দ্ব কলহের মজ্জায় বসে ভুলে লজ্জা শরম
প্রতিনিয়ত করে দংশন, ছলনার কল-কাটি ধরে নিয়তি-
বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখায়,সমাধি ভরে পুষ্পের তোরণ!
অক্ষত নারীত্ব, অক্ষমতায় বলো কতবার করবে মৃত্যবরণ?

তৃষ্ণার্ত প্রেম

ভুল করে ভালোবেসে সদম্ভ আচরণে
সর্বেসর্বা হয়ে বলো আজ ভুলেই যেতে,
নেই সময় তোমার সুসময়ে কিচ্ছুটি জানার
পোড়া রৌদ্র বুকে বেদনার্ত বাদলপূর্ণ দিনে-
মুমূর্ষু মনের এই আমি, কেমন আছি!
স্মৃতির বিষাক্ত দংশনে হরণ প্রীতির,
পিপাসার্ত দুঃসময়ে জীবনের যবনিকা প্রায়-
মরুর প্রান্তরে সবকিছু ধ্বংসের অপেক্ষায়।
ভালোবাসা! সে তো উস্কে দেয় আজ ফুসলিয়ে,
নষ্টের সাথে কষ্টের প্রেম আসক্তির রথে-
ভস্ম হতে ভাসমান জীবন, দুলে হাওয়ায়।
অনেক বদলে গেছ, শোধরে দিতে ঝেড়ে নিয়ে সব
পোড়া হৃদয়ে হাসে না আর সকালের সূর্য
মেঘে ঢাকা জ্যোৎস্নার আলো নিভু নিভু সান্ধ্য প্রদীপ
ঊাস্তবতা বড় অসহায়, বিশ্বাস করেনা অদ্যাবদি
উপহাসে যাচ্ছে বয়ে জীবন নামের খরস্রোতা নদী।

তিক্ত সময়

সেদিন থেকেই মরে যেন পরে আছি ঘরে!
জীর্ণ দেহে সদা শীর্ণ মন চঞ্চলা নিঃস্বয়-
সমুদ্র সমান শূন্যতা, ভরসার দৈন্যতায়
জীবন কথা বলে নিস্ক্রিয় দেহে, মহামায়ায়।
হুইসেল বাজিয়ে বিষাদঘন অন্ধকারে
নিস্তব্ধ নিরুত্তাপ মূহুর্তে, তোমায় নিয়ে-
কাক ডাকা ভোরে ঝিকঝিক শব্দে উদাসী করে
আমায়, ছেড়ে চলে গেল শেষ রাতের ট্রেন।
বিদায়! তুমি এতো নিষ্ঠুর কেন? ক্ষতের ত্বরণ,
তপ্ত জমিনে দগ্ধ মশালের আলোয় জানাতে হয়
পাথর চাপা হৃদয়ে, হাত নেড়ে রিক্তে সম্ভাষণ।
ক’দিনের মধ্যেই আসবে ফিরে! শান্তি-সুখের নীড়ে!
এই বলে হৃদয়টা নিয়ে গেলে বুক পকেটে আমার,
কেড়ে নিলে ঘুম, দুর্ভাবনাগুলো যতœ করে বুক ভরে
রেখে গেলে পচনহীন হিমাগারে। বললে, আসছি–
আপেক্ষা! সে তো ধীর গতির নির্দয় কংক্রিটে তৈরী
প্রশান্তির বৈরী, তিক্ত বিরক্তির শক্ত প্রাচীর।
দুর্ভেদ্য আগামী বড়ই ক্লান্তির, কাটে না সময়
ধিকধিক শব্দে পাজর ভাঙ্গা হাহাকারে, প্রিয়-
কখন আসবে ফিরে? মরা মনে পড়ে থাকা পথ চেয়ে।।

বিদ্যুৎ সমাচার

ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ উন্নত হতে দেশ
রঙ বেরঙের খুঁটি,
গরমে নড়ে আয়েশ, লজ্জার নেই লেশ
জল গড়লে ছুটি।
ঝড় হলো তো হারিয়ে গেল!
কৈফিয়ত নিবে কে ?
কর্তা বাবুদের সস্তা মাথায় যেন
শর্টসার্কিট থাকে ছেঁয়ে।
কাটে বাল্প, ফ্রিজের প্রেসার যায় পুড়ে
ঘন ঘন বৈদ্যুতিক মিসকলে,
ইলেট্রনিক্স কোম্পানিগুলোর বাজার গরম
সাধারণ মানুষ হাঁপায় যাঁতাকলে।
গন্ধযুক্ত ফ্রিজের খাবার আর জ্যৈষ্টের গরমে
অতিষ্ঠ দেহে নানান রোগের বসতি,
শিশু থেকে বৃদ্ধ অসহ্য যন্ত্রণায় চরমে
জীবন জীবিকায় নাগরিক সুবিধায় গাফিলতি।
অফিসে বসে বিদ্যুৎ বিলের হিসেব কষে
ধরিয়ে দেয়া হয় বাড়তি বিলের বোঝা,
মিটার দেখেনা মেলেনা ইউনিট, তাতে কি?
দাও বিল নইলে যাও, জেলে সোজা।

বাংলার কথা/তিতাস আলম/০৩ জুন, ২০১৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে
সম্পাদক: শ.ম সাজু
সহকারী সম্পাদক (রংপুর বিভাগ): তিতাস আলম
২০৯ (৩য় তলা), বোয়ালিয়া থানার মোড়, কুমারপাড়া, রাজশাহী। ফোন: ০১৯২৭-৩৬২৩৭৩, ই-মেইল: banglarkotha.news@gmail.com