Today November 25, 2017, 3:35 am |
Home » অপরাধ ও আইন » উত্তরা গণভবনের শতবর্ষী গাছ কাটা নিয়ে তোপের মুখে কর্মকর্তারা

উত্তরা গণভবনের শতবর্ষী গাছ কাটা নিয়ে তোপের মুখে কর্মকর্তারা

নাইমুর রহমান, নাটোর ০
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বলে খ্যাত নাটেরের উত্তরা গণভবনের গাছ কাটা নিয়ে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় আজ ১৭ অক্টোবর মঙ্গলবার স্থানীয় সংসদ সদস্যের তোপের মুখে নাজেহাল হয়েছেন জেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। একই সাথে উত্তরা গণভবনের ভেতরের মরা গাছের নামে লাখ লাখ টাকার শতবর্ষী তাজা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠায় তোলপাড় শুরু হয়েছে অনান্য সরকারি দপ্তরগুলোতেও।

অভিযোগ উঠেছে, বন বিভাগের কর্মকর্তার দেওয়া মূল্য তালিকা অনুসারে কয়েক লাখ টাকার গাছ মাত্র ১৮ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করে গণপূর্ত বিভাগ। এসব তাজা গাছ কেটে নেওয়ার দৃশ্য গণভবনের নিরাপত্তায় থাকা ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটি। ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মনিরুজ্জামান ভুঞাকে প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদ্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খায়রুল আলম, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম ভুইয়া ও এনডিসি অনিন্দ মন্ডল। এর আগে মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন ও গণপূর্ত বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একে এম জিল্লুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা গণভবন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান।


পরে দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের উপস্থিতিতে গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তাজা ও নিলামের অতিরিক্ত গাছ কেটে ফেলার সত্যতা প্রকাশ হওয়ায় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এসময় তিনি বন কর্মকর্তাকে ভৎসনা করেন।

জেলা কালেক্টরেট অফিস সূত্রে জানা যায়, উত্তরা গণভবনের চারপাশের লেকের ধারে শতবছরের অন্তত ৩০০ প্রজাতির আমগাছ রয়েছে। এছাড়া মেহগনি, নারিকেল, কাঠ বাদামসহ আরো পাঁচ শতাধিক গাছ রয়েছে। সম্প্রতি ঝড়ে এবং মরে যাওয়া দুটি আম, একটি মেহগনিসহ বেশ কিছু গাছের ডালপালার ইজারা আহ্বান করে স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগ।

বনবিভাগের কর্মকর্তা  আবু আব্দুল্লাহর দেওয়া মূল্য নির্ধারণ অনুসারে মাত্র ১৮ হাজার চারশ’ টাকার টেন্ডারের বিপরীতে প্রায় ১০ লাখ টাকার অন্তত ১২ থেকে ১৬টি তাজা গাছ কেটে গণপূর্ত বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীর সহায়তায় সরিয়ে ফেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। বন কর্মকতা আবু আব্দুল্লাহ জানান, তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে মরা, পচা ও ঝড়ে পড়ে যাওয়া গাছের মুল্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন মাত্র।

গণভবনের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের কর্মচারী সুজন পাল জানান, গণপূর্ত বিভাগ শুধু উত্তরা গণভবনের ভবনগুলোর দায়িত্বে থাকলেও তারা অন্যায়ভাবে গাছগুলো লিজ দিয়েছে। নিলামে কেনা ঠিকাদার শতবর্ষী তাজা সব গাছ কেটে নিয়ে গেছে। অন্তত ১৫টি তাজা গাছ কাটা হয়েছে।

গণভবনে দায়িত্বরত সোহেল নামে এক পুলিশ সদস্য জানান, তিনি কর্মরত থাকা অবস্থায় গাছের গুড়ি বাহিরে নিয়ে যেতে বাধা দিয়েছিলেন। ওই সময় গণপূর্ত বিভাগের কর্মচারীরা নিলামের কাগজ দেখিয়ে তা ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

ঠিকাদার সোহেল ফয়সাল জানান, তিনি কোন অনিয়ম বা গোপনে কাঠ সরিয়ে ফেলেননি। নিয়ম অনুযায়ী গাছ কেটেছেন। জেলা প্রশাসন ও গণপূর্ত বিভাগের নিয়োগকৃত কর্মকর্তা কর্মচারী  এবং পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সার্বক্ষনিক উপস্থিত ছিলেন। গোপনে সরিয়ে ফেলার কোন সুযোগ নেই  বলে দাবি করেন তিনি।


এদিকে সিসি ক্যামেরায় কাঠ পাচারের দৃশ্য ধরা পড়ার পর নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন জেলা প্রশাসনসহ গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির। এঘটনায় গণভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।

ওই সভায় উপস্থিত রাজশাহী গণপুর্ত বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী একে এম জিল্লুর রহমান জানান, নিলাম ডাকের চেয়ে বেশি গাছ কাটা হয়েছে। বিষয়টি বিভাগীয় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, এখন যে সব কাটা গুড়ি পড়ে রয়েছে তার আনুমানিক মূল্য দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা হবে। তিনি কমিটির সদস্য হলেও নিলামের বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এই ঘটনার পর উত্তরা গণভবনের ‘গ্রান্ড মাদার হাউস’ সহ লেকের পিছনের আমবাগান দর্শনার্থীদের জন্য উন্মক্ত করা ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। এনডিসি অনিন্দ্য মন্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘোষনা করা হয়েছে ,তবে বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে।

বাংলার কথা/নাইমুর রহমান/অক্টোবর ১৭, ২০১৭

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে
সম্পাদক: শ.ম সাজু
সহকারী সম্পাদক (রংপুর বিভাগ): তিতাস আলম
২০৯ (৩য় তলা), বোয়ালিয়া থানার মোড়, কুমারপাড়া, রাজশাহী। ফোন: ০১৯২৭-৩৬২৩৭৩, ই-মেইল: banglarkotha.news@gmail.com