Today June 16, 2018, 5:44 pm |
Home » উত্তরের খবর » ঈদের পর চালু হচ্ছে জেলা পরিষদ মিলনায়তন

ঈদের পর চালু হচ্ছে জেলা পরিষদ মিলনায়তন

নিজস্ব প্রতিবেদক ০
টাকার অভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবারো শুরু হয়েছে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনের আধুনিকায়নের অসমাপ্ত কাজ। সিটি করপোরেশনের প্রত্যাশা, ঈদের পর পরই উদ্বোধন করা যাবে মিলনায়তনটি। কেটে যাবে সংস্কৃতিকর্মীদের শঙ্কা। নানা অনুষ্ঠানে মুখরিত থাকবে আটশ’ আসনের এই  মিলনায়তন প্রাঙ্গন।

নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে অবস্থিত রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনটি ছিলো নানা অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অন্যতম ভেন্যু। তবে মিলনায়তনটির সাউন্ড সিস্টেম উন্নতমানের ছিলো না। ছিলো না শীতাতাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। আসনগুলোও ছিলো বেশ পুরানো। বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই মিলনায়তনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় জেলা পরিষদ। তবে নিজেদের প্রযুক্তি ও জনবলের অভাবে জেলা পরিষদ তখন এটি আধুনিকায়নের জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে (রাসিক) দায়িত্ব দেয়। এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র থাকাকালে ২০১১ সালে শুরু হয় জেলা পরিষদ মিলনায়তনের আধুনিকায়ন কাজ। সিটি করপোরেশন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শুরু করে। কিন্তু ২০১৩ সালের নির্বাচনে খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র পদে পরাজিত হলে পরবর্তীতে টাকার অভাবে শেষ সময়ে এসে কাজটি আটকে যায়।

এরপর থেকে মিলনায়তনটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল। সম্প্রতি রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা মিলনায়তনটির অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করেন। এরপর নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ দেয় সিটি করপোরেশন। ফলে নতুন করে মিলনায়তনটির থমকে থাকা অসম্পূর্ণ কাজ আবার শুরু হয়েছে। ঈদের পরই সব কাজ শেষে নতুন করে মিলনায়তনটির উদ্বোধন করা যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল হক জানান, চার কেটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর মিলনায়তনটির আধুনিকায়নের কাজে হাত দিয়েছিল সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়নে তিন কোটি ২৩ লাখ, আধুনিক সিট স্থাপনে ৫৩ লাখ ও আধুনিক বৈদ্যুতিক ও সাউন্ড সিস্টেমে ব্যয় হয়েছে ৯৩ লাখ টাকা। এছাড়া ভেতরের নতুন আসন ব্যবস্থার জন্য ঠিকাদারকে নিজস্ব তহবিল থেকে ৫৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে সিটি করপোরেশন। ২০১২ সালের ১০ জুন কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকার অভাবে শেষভাগে এসে কাজটি থেমে যায়। সম্প্রতি কাজ শেষ করতে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা রাসিককে এক কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন। সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার নিজস্ব প্রকল্প হিসেবে এখন কাজটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীর সিঅ্যান্ডবি মনিবাজারে অবস্থিত এ মিলনায়তনের আধুনিকায়ন শুরুর পর বেশকিছু কাজ করা হয়েছিল। তবে টাকার অভাবে ভেতরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র এবং সাউন্ড সিস্টেম লাগানো হয়েছিল না। নতুন করে বরাদ্দের এক কোটি ২০ লাখ টাকায় সব কাজই শেষ হবে। এরপর মিলনায়তনটি ঘিরে আবার সাংস্কৃতিক কর্মীরা তৎপর হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ৮০০ আসনের এই মিলনায়তন ভাড়া দিয়ে আয়ের একটি পথ খুলে যাবে জেলা পরিষদের।

মিলনায়তনটির আধুনিকায়নে থমকে থাকা কাজ শেষ করতে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে এগিয়ে আসায় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার। তিনি বলেন, মিলনায়তনটির কাজ শেষ করতে নিজস্ব প্রকল্প দিয়ে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এগিয়ে আসায় তার প্রতি রাজশাহীবাসী কৃতজ্ঞ। আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। মিলনায়তনটি চালু হলে রাজশাহীর মানুষই সেবা পাবেন। সেই সঙ্গে জেলা পরিষদের আর্থিক ভিত্তিও শক্তিশালী হবে।

রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য আমি ১৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি। এতে খরচ হবে প্রায় সাত কোটি টাকা। এই ১৬টি প্রকল্পের একটি জেলা পরিষদের মিলনায়তনের আধুনিকায়নের অবশিষ্ট অংশ শেষ করা। রাজশাহীর উন্নয়নে তিনি এভাবে কাজ করে যেতে চান বলে জানান বাদশা।

বাংলার কথা/জুন ১২, ২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি: ড. প্রদীপ কুমার পান্ডে
সম্পাদক: শ.ম সাজু
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মোঃ হাবিবুর রহমান
২০৯ (৩য় তলা), বোয়ালিয়া থানার মোড়, কুমারপাড়া, রাজশাহী। ফোন: ০১৯২৭-৩৬২৩৭৩, ই-মেইল: banglarkotha.news@gmail.com